দ্য পিপল ডেস্কঃ মাত্র আর কয়েক দিনের অপেক্ষা। মর্তে আসছেন দেবী দশভূজা। পুরাণ মতে আদ্যাশক্তি দেবীর নানা রূপ, কখনও তিনি চণ্ডী, কখনও তিনি অম্বিকা, কখনও বা যোগমায়া, মহামায়া ইত্যাদি। একেক নামের দেবীর মূর্তি কখনও চার হাত, কখনও আট হাত, কখনও ষোলো হাত আবার কখনও আঠেরো হাত।

তবে শরতে বাঙালি উত্সবের দেবী দশভূজা। মহিষাসুরকে নিধনের জন্য দুর্গার হাতে অস্ত্র তুলে দেন দশ দেবতা। মায়ের এক এক হাতে তাকে এক একটি অস্ত্র। মহিষাসুরকে হত্যার জন্য এই অস্ত্রগুলি দেওয়া হলেও প্রত্যেক অস্ত্র আলাদা অর্থ বহন করে। জানেন মায়ের দশ হাতে থাকা দশটি অস্ত্রের নাম কী? কী অর্থ বহন করে সেই অস্ত্রগুলি?

১. শঙ্খঃ বরুণদেব দুর্গার হাতে শঙ্খ প্রদান করেছিলেন। শামুক থেকে তৈরি হয় শঙ্খ, যা সৃষ্টির প্রতীক। মনে করা হয় সৃষ্টির আদি প্রাণ শামুক বা শঙ্খ। সৃষ্টির প্রতীক ধারণ করেন দেবী দুর্গা।

২. চক্রঃ দেবীকে চক্র প্রদান করেছিলেন ভগবান বিষ্ণু। মনে করা হয়, দেবীকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে জগত্-সংসার।

৩. গদাঃ দেবীকে গদা প্রদান করেছিলেন যমরাজা। গদা আনুগত্য, ভালবাসা ও ভক্তির প্রতীক।

৪. পদ্মঃ দেবীকে পদ্ম প্রদান করেন স্বয়ং ব্রক্ষ্মা। পাঁকে জন্মালেও পদ্মের রূপ মোহিত করে। তাই মনে করা হয়, পদ্মের মতোই দেবী অন্ধকারের মধ্যেই আলোর আবির্ভাব ঘটান।

৫. তীর-ধনুকঃ দেবীকে তীর-ধনুক দিয়েছিলেন বায়ু। ধনুকের শক্তি নিয়ে লক্ষ্যে আঘাত করে তীর। সেই শক্তি মানবজগতকে প্রদান করতে দেবীর হাতে থাকে এই অস্ত্র।

৬. ত্রিশূলঃ দেবীকে ত্রিশূল দিয়েছিলেন দেবাদিদেব মহাদেব। যা দিয়ে মহষাসুরকে হত্যা করেন মহামায়া। সত্ব, তম ও রজঃ -ত্রিশূলের তিনটি ফলার তিন গুণ বহন করে।    

৭. বজ্রঃ দেবরাজ ইন্দ্র দুর্গাকে বজ্র প্রদান করেছিলেন। এই বজ্র দৃঢ়তা, সংহতি ও মৃত্যুর প্রতীক।

৮. সাপঃ সাপ প্রদান করেন নাগরাজ শেষনাগ। চেতনার নিম্নস্তর থেকে উচ্চস্তরে পৌঁছনোর প্রতীক এই সাপ।

৯. অগ্নিঃ অগ্নি দিয়েছিলেন অগ্নিদেব। সহনশীলতার প্রতীক অগ্নি।

১০. খড়গ বা তলোয়ারঃ খড়গ বা তলোয়ারে থাকে শান। মানুষের যা কিছু ইতিবাচক শক্তি তাতে শান দিলে মানুষ সব নেতিবাচক বিষয়কে জয় করতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here