দ্য পিপল ডেস্কঃ বাপের বাড়ি থেকে কৈলাশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে দিয়েছেন উমা। স্বভাবতই মনখারাপ সব বাঙালির। আট থেকে আশি অনুভূতিটা সবারই এক। আবার একটা বছরের অপেক্ষা।

কিন্তু শত মন খারাপের মাঝেও বাঙালি কিন্তু বিজয়া দশমীটা জমিয়ে পালন করে। কোলাকুলি থেকে মিষ্টিমুখ সবটাই হওয়া চাই একদম নিখুঁত ভাবে। আর এই বিজয়া দশমীর মূল আকর্ষণ হলো হরেক রকমের মিষ্টি।

নবমীর রাত থেকেই মিষ্টির দোকানগুলিতে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। সময় বদলেছে। সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে বাঙালির মনের ফ্লেভার।

টেকনোলজির যুগে চলতে চলতে সব কিছুতে ভ্যারাইটিস খুঁজতে শুরু করেছে মানুষ। তাই যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নয়া নয়া ফ্লেভারের মিষ্টি আনছেন কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ময়রারা।

এবছরের সেরা কিছু মিষ্টির তালিকায় উঠে এসেছে, ডাবের শাঁস দিয়ে তৈরি ডাবের জলে মাখা সন্দেশ, নারকেল নাড়ু, লাড্ডুর মিহিদানার পুর, কোহিনূর সন্দেশ, বেকড মালাই চমচম বা স্ট্রবেরী ফ্লেভার ক্রিমি রসমালাই-এর মতো মিষ্টি।

পাশাপাশি থাকছে কেশর উৎসবও। যেটি উপরে কেশর ও ভিতরে পেস্তা ও কাঠবাদামের পুর। এবং রোস্টেড কাঠবাদাম সন্দেশ।

মিষ্টির অভিনবত্ব থাকলেও বেশ কিছু চিরাচরিত মিষ্টি আজও জনপ্রিয়। যেমন রসগোল্লা, জলভরা সন্দেশ, মতিচুরের সন্দেশ, আইসক্রিম সন্দেশ, রসমালাই।

এছাড়াও বাড়িতেও বানাতে পারেন বেশ কয়েকটি চটজলদি মিষ্টি..রইল তালিকা

ক্ষীরের মালপোয়া

উপকরণঃ খোয়াক্ষীর ১ ১/২ বাটি, ময়দা ১/৪ বাটি, সুজি ১ বাটি, নুন ১/২ চা চামচ, ভাঙা গোলমরিচ ১ চামচ, শুকনো লঙ্কার গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, মৌরি ২ চামচ, দুধ পরিমাণ মতো, জাফরান ২ চামচ, চিনির পাতলা রস ৩ বাটি, ঘি ১/২ বাটি, সাদা তেল- ভাজার জন্য।

প্রণালীঃ এবার চিনির গরম রস নামিয়ে তাতে জাফরান ছড়িয়ে রাখুন। বাকি সমস্ত উপকরণ ভাল করে মিশিয়ে একটা ব্যাটার বানিয়ে নিন। অনেকটা প্যানকেকের ব্যাটারের মতো হবে।

এবার একটা নন-স্টিক তাওয়ায় সাদা তেল কিংবা ঘিয়ে মালপোয়া ভেজে তুলে রসে ফেলে রাখুন আধঘণ্টা। ব্যস, ক্ষীরের মালপোয়া রেডি।

শাহী ক্ষীর সুজি

উপকরণঃ ক্ষীর সুজির শাহী টুকরা বানাতে লাগবে: খোয়াক্ষীর ৫০০ গ্রাম, সুজি ৩০০ গ্রাম, ছোট এলাচের গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, দুধ ৫০০ গ্রাম, গুঁড়ো দুধ ১ কাপ, কাজু, কিশমিশ, পেস্তা ২৫০ গ্রাম, চিনি ৩৫০ গ্রাম, নুন ১/২ চা চামচ, জাফরান ১ চামচ, গোলাপজল ১ চামচ, কেওড়া জল ১ চামচ, জল আন্দাজমতো, ঘি ১১/২ কাপ।

প্রণালীঃ এবার কড়াইয়ে সুজি ভেজে, তাতে একে একে ঘি, চিনি, খোয়াক্ষীর, দুধ, জল আর বাকি উপকরণ একে একে দিয়ে দিন।

ঘন হয়ে এলে আলাদা একটা কড়াইয়ে আরও একটু ঘি গরম করে তাতে কাজু-কিশমিশ-পেস্তা ভেজে নিন।

এবার সুজির মধ্যে দিয়ে ভাল করে ঘেঁটে দিতে হবে।

এবার একটা কানা উঁচু পাত্রে মিশ্রণটি ঢেলে, একটু চেপে চেপে সমান করে উল্টে দিতে হবে। ঠান্ডা হলে বরফির মত কেটে পরিবেশন করুন।

রসমালাইঃ

উপকরণঃ ১২-১৫ টা রসগোল্লা (আপনি কিনেও আনতে পারেন বা বাড়িতে বানিয়েও নিতে পারেন), ১ লিটার ফুল ফ্যাট গোরুর দুধ, ৪-৫ চামচ চিনি, ১০-১২ টা আমন্ড বাদাম, ১০-১২ টা পেস্তা বাদাম, ছোট এলাচের গুঁড়ো ১/২ চামচ, ১-২ চামচ গোলাপজল বা কেওড়ার জল, এক চিমটে কেশর।

প্রণালীঃ গরম জলে আমন্ড ও পেস্তা বাদাম গুলিকে খানিকক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। এবার একটা পাত্রে ১ লিটার দুধ নিয়ে গ্যাসে হালকা আঁচে বসান।

যখন দুধ গরম হবে তখন কেশর দিন। হালকা নাড়াচাড়া করার পর যখন কেশর থেকে রঙ বেরোতে শুরু করবে তখন দুধটাকে ঢিমে আঁচে বসিয়ে রাখুন।

মাঝে মাঝে নাড়াচাড়া করুন যাতে তলা লেগে না যায়। দুধ বেশ কিছুটা ঘন হয়ে এলে তাতে চিনি দিয়ে মেশান।

আপনি খুব বেশী মিষ্টি পছন্দ না করলে চিনি নাও দিতে পারেন, কারণ রসগোল্লার রসে বেশ ভালো পরিমাণেই চিনি থাকে।

এবার দুধে এলাচ গুঁড়ো দিন, তারপর ভেজানো আমন্ড ও পেস্তা বাদামগুলিকে স্লাইস করে কেটে দুধে দিন।

এবার রসগোল্লাগুলি থেকে বাড়তি রস ভালো করে চিপে দুধে ফেলুন। ৩-৪ মিনিট হালকা আঁচে গ্যাসে বসিয়ে রাখুন।

এবার গ্যাস নিভিয়ে গোলাপজল বা কেওড়ার জল মিশিয়ে নাড়াচাড়া করে ঘরের টেম্পারেচারে এনে ঠাণ্ডা করে পরিবেশন করুন রসমালাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here