..স্নেহাশ্রী বিশ্বাস..

সব কিছুরই শেষ আছে। সেই বিশ্বাস নিয়েই এখন করোনার প্রকোপ থেকে মুক্তির উপায় খুঁজছেন বিশ্ববাসী। কিন্তু তাঁদের হতাশ করে ক্রমশ শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে করোনা। যার ফলে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।

তবে  এরই মধ্যে আশার আলো জাগাচ্ছে  কিছু বিশেষজ্ঞের মতামত। তাঁদের মতে, চলতি মরশুমে গরমের প্রভাব প্রড়তে অনেকটা দেরি হচ্ছে। আর সেজন্যেই বাসা বেঁধে থাকছে করোনা ভাইরাস।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন,  যে সব দেশে শীতের প্রভাব বেশি করোনা সেই সব দেশেই ছড়িয়েছে।  এখন বসন্তকাল চলছে। গরম পড়তে শুরু করলে করোনার প্রকোপ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

যে সব দেশে করোনা ছড়িয়েছে সেই সব দেশের তাপমাত্রা ২৩ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলেই করোনার প্রকোপ কমতে শুরু করবে।

কিন্তু সত্যি কি তাই?

আসলে, বেশিরভাগ ভাইরাস বা ফ্লু ছড়ানোর সঙ্গে ঋতু পরিবর্তনের  একটি  যোগ থাকে।  করোনাও শীতের দেশগুলিতে জাঁকিয়ে বসেছে।

যে সময় করোনা ভাইরাস চিন, কোরিয়া, ইরান, ইটালি, স্পেনে ছড়িয়েছে সেই সময়ে সেসব দেশের তাপমাত্রা ছিল ৫ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। তবে ভারত, বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে এখন শীতের প্রভাব না থাকলেও করোনা যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছে।

একটি গবেষণায় করোনা ভাইরাসের প্রকৃতি সম্পর্কে বলা হচ্ছে, এই ভাইরাসের গায়ে এক ধরনের রাবারের মতো পদার্থ থাকে। যা দেখতে অনেকটা জেলি লজেন্সের মতো, চটচটে।

ঠান্ডায় চটচটে জিনিস আঠার মতো আটকে থাকে। তাই  প্রকৃতিগত দিক থেকে করোনা ভাইরাসও ঠান্ডা পেলে জাঁকিয়ে বসে।

করোনাকে বাগে আনতে না পারলেও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৩ সালে ভয়াবহ আকার নেওয়া সার্স ভাইরাসের সঙ্গে করোনার চরিত্রের অনেক মিল আছে।

সেই সার্স ভাইরাসও ছড়িয়েছিল অপেক্ষাকৃত শীত প্রধান দেশে। এবং যত উষ্ণতা বাড়তে শুরু করে ততই এর প্রভাব কমে যেতে থাকে।

স্টকহোমের ক্যারোরিনসকা ইনস্টিটিউটের এক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জেন আলবার্ট বলছেন, করোনা ইতিমধ্যে মহামারি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে আমরা আশাবাদী এটি ঋতুর সঙ্গে পরিবর্তন হবে।

গবেষণা চললেও করোনার গতি-প্রকৃতি পুরো জানা সম্ভব হয়নি গবেষকদের পক্ষেও। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে করোনা ভাইরাসও তার চরিত্র বদলাতে শুরু করবে কিনা তাও বোঝা সম্ভব হয়নি এখনও।

তবে আশা হারালে চলবে না, করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ জারি রাখতেই হবে।