..সুস্মিতা মজুমদার সাহা..

হাজারো চেষ্টা করেও ঠেকানো যাচ্ছে না করোনা। প্রত্যেক দিন সংক্রমণ ও মৃত্যুর নতুন রেকর্ড করে গতি বাড়িয়ে চলেছে।

গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আক্রান্ত ৩৩ হাজার, মৃত্যু ৬০০র বেশি মানুষ। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লক্ষের কাছাকাছি।

তবে এবার আমরা ইতালির অবস্থা দেখতে চলেছি ভারতের ক্ষেত্রে! যেখানে প্রত্যেক দিন হাজার মানুষ করোনার গ্রাসে চলে যাচ্ছে!

চিনের পর করোনা সব থেকে ভয়াবহ রূপ নেয় ইতালিতে। তখনও আমেরিকা, স্পেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, ব্রাজিলে ইতালির মতো ব্যাপক হারে সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করেনি।

টানা একমাস প্রায় প্রত্যেক দিন ইতালিতে হাজারের কাছাকাছি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ প্রত্যেক দিন আক্রান্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে থাকা দেশটির অসহায়তা দেখেছে গোটা বিশ্ব। ভাইরাল হয়েছে ইতালির প্রধানমন্ত্রী কন্তের কান্না।

মাত্র সাত কোটির জনসংখ্যার দেশের বিভিন্ন ছবি ভাইরাল হতে সময় লাগেনি। মৃতদেহ বোঝাই ট্রাকের লম্বা লাইন দেখে শিউরে উঠেছে বিশ্ব।

ভয় পেয়েছে, ইস ওদের কি অবস্থা! যদি আমাদেরও এমন অবস্থা হয়! কি হবে তখন! কিন্তু শুধু ইতালি কেন?

ইতালির পর পর নাম লিখিয়েছে অনেক দেশ। সবার প্রথমে আমেরিকা।

প্রথম থেকে লকডাউনের বিপক্ষে বলে যাওয়া ট্রাম্পের হতবুদ্ধির কারণে সেদেশের অবস্থা ইতালিকেও ছাপিয়ে গেছে। তবু শিক্ষা হয়নি আমাদের।

ব্রাজিল, ব্রিটেন, স্পেন, ফ্রান্স, রাশিয়া আরও কত। কিন্তু সবাইকে পিছনে ফেলে ক্রমশ এগিয়ে চলেছে ভারত।

ইতালির সামনে আর একটা ইতালির উদাহরণ ছিল না। কিন্তু গোটা বিশ্বের সামনে ইতালি উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

তবু আমরা সাধারণ মানুষ, গোটা বিশ্ব, বিশ্বের দেশগুলির প্রধান প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বরা শিক্ষা নিতে পারলেন কি?

সত্যি যদি শিক্ষা নেওয়া যেত এই দিন হয়ত দেখতে হতো না ভারতবাসীকে! বড় বেশি গা-সওয়া আমরা। কিছুদিন হইচই, তার পর আবার সেই আগের মতো সব কিছু।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, করোনা যাবার নয়, একে সঙ্গে করেই চলতে হবে আমাদের। তাই চালু হয়ে গেল আনলক, আমরাও হইহই করে নেমে পড়লাম।

চিকিৎসা না পেয়ে মানুষের মৃত্য়ু শুরু হয়ে গেছে। পথেঘাটে পড়ে থেকে মৃত্যু শুরু হয়ে গেছে।

প্রথম প্রথম শিউরে উঠছি, স্মার্টফোনের যাদুতে হাতের কাছে সোশাল মিডিয়া পেয়ে দু-কলম বিপ্লব দেখাচ্ছি।

তারপর রাস্তাঘাটে পড়ে থাকার সংখ্যা যখন বাড়তে শুরু করবে আমরা গা-সওয়া হয়ে যাব!

যখন লকডাউনের সব থেকে বেশি দরকার ছিল তখনই দেওয়া হল আনলক।

কে জানে এত সবের শেষ কোথায়!