পর্দায় গব্বর মঞ্চে অমিত 01

দ্য পিপল ডেস্কঃ সত্তরের দশকের সুপারহিট সিনেমা ‘শোলে’ ছবির কথা মনে করিয়ে দেয় এই সংলাপ। সিনেমা তো বটেই,এক সংলাপেই বাজার কাঁপিয়েছিলেন অভিনেতা ধর্মেন্দ্র-ও।

শুধুমাত্র সে সময় বললে ভুল হবে। এ বাজারেও চোখ রাঙানির বিকল্প হিসাবে ‘চুন চুন কে মারুঙ্গা’ চায়ের দোকানের আড্ডায় শোনা যায়।

পর্দায় গব্বর মঞ্চে অমিত

সম্প্রতি এমনই কিছু টক-ঝাল স্বাদের শব্দ ব্যবহার করে দলের কর্মীদের চাঙা করছেন রাজনৈতিক নেতারা

মঙ্গলবার দলীয় কর্মসূচীর জন্য কলকাতায় আসেন সর্বভারতীয় বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ।

ইন্ডোরের সভা থেকেই ২১ এর নির্বাচনে বিধানসভা নির্বাচনের রণনীতি সাজানোর ইঙ্গিত দিলেন দলীয় কর্মীদের।

হাতিয়ার সেই এনআরসি। তিনি বলেন, এনআরসি নিয়ে বাংলার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বাংলায় যারা হিন্দু শরনার্থী রয়েছে তাঁদের বের করা হবে না । 

ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে এনআরসি আতঙ্কে ক্রমশ মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এনআরসি নিয়ে মানুষের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়েছে।

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এনআরসি নিয়ে কাউকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে না। এটা একটা মিথ্যা রটনা।

এনআরসির আগে ভারতে সিটিজেনশিপ অ্যামেডমেন্ট বিল আনা হবে। এমনটাই জানালেন অমিত শাহ।

তাঁর মাধ্যমে যে সমস্ত হিন্দু শরনার্থীরা ভারতে রয়েছেন তাঁদেরকে সমস্ত সুযোগ সুবিধা দেওয়া বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিন তৃণমূলকে কটাক্ষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যখন রাজ্যসভায় এ বিল আনা হয় তখন এই বিলের বিরোধিতা করেন তৃণমূল বিধায়করা।

দেশজুড়ে হিন্দু শরনার্থীরা মানুষেরা নাগরিকত্ব পেলেন না শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। যার ফলে দেশের মধ্যে অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে শুরু করেছে।

তাদেরকেই ভোটব্যাঙ্ক হিসাবে ব্যবহার করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিজেপি সভাপতির স্পষ্ট জবার রাজনৈতিক স্বার্থে নয়, দেশের স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

দেশের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

পর্দায় গব্বর মঞ্চে অমিত,২ থেকে বেড়ে ১৮

চলতি বছরেই লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির আসন সংখ্যা ২ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ তে।

রাজ্যের প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট গিয়েছে পদ্ম শিবিরে। যেখানে কোচবিহার, উত্তর মালদহ, বনগাঁ, রায়গঞ্জের মত সীমান্তবর্তী আসনগুলি গিয়েছে বিজেপির দখলে। 

কিন্তু এদিনের সভায় মুসলিম সম্প্রদায়কে ঘিরে কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতারা।

বিজেপি নেতা রাহুল সিনহার গলাতেও শোনা গেল, রাজ্যে যারা মুসলিম শরনার্থী রয়েছেন তাঁদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হবে। একই সুর অমিত শাহের।

“চুন চুন কের বাহার কারেঙ্গে” বলে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিলেন তিনি।

এহেন অবস্থায় মুসলিম শরনার্থীদের ভবিষ্যৎ কি? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহল।

এরাজ্যে এনআরসি বিরোধিতায় একজোট হয়েছে তৃণমূল ও বাম-কংগ্রেস। তারই মধ্যে রাজ্যে বিজেপির উত্থান চাপে ফেলেছে বিরোধী দলগুলিকে।

যদিও ‘দিদিকে বলো’ কর্মসুচী সে অর্থে মোড় ঘোরাতে পারেনি তৃণমূলের। এরই মধ্যে রাজ্যে এনআরসি হলে হিন্দুরা সেফ বলেছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভগবত। আর সেই পথই অনুকরণ করলেন সর্বভারতীয় বিজেপি সভাপতি।

২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে পুরসভার নির্বাচন। এনআরসি দিয়েই বিজেপির দুই নির্বাচনী বৈতরণী পার হয় কিনা, সেটাই দেখার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here