…শুভশ্রী রায় চৌধুরী…

করোনার আতঙ্কে থরহরি কম্প গোটা বিশ্ব। সেই আতঙ্কে কাঁপছে ভারত। 

দেশে মহামারির সংক্রমণ প্রতিরোধে ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু কোথায় লকডাউন ! পাড়ার মোড়ে দিব্যি চলছে তাসের আসর। চায়ের কাপে তুফান। সঙ্গে সিগারেটে সুখ টান।

কেউ বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার হিড়িকে। কেউ আবার জোরে বাইক চালানোর সুখও মিটিয়ে নিচ্ছে এই সুযোগে। 

এই জটলা ভাঙতে রাস্তায় নেমেছেন বিশাল পুলিশবাহিনী। কোথাও লাঠিপেটা করে, কোথাও কান ধরে ওঠ বোস করিয়ে সফল করেছেন লকডাউন।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সোশাল মিডিয়ায় উঠে এসেছে পুলিশের এধরনের ‘শাস্তি’র ছবি ও ভিডিও। কেউ প্রশংসায় পঞ্চমুখ। লাঠ্যৌষধি একমাত্র উপায়। আবার কেউ নিন্দায় মুখর।  

কিন্তু চেন্নাইয়ে ধরা পড়ল এক অন্য ছবি। সম্প্রতি একজন টুইটারে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন।

যেখানে দেখা যাচ্ছে, লকডাউন থাকা সত্ত্বেও যাঁরা বাড়ির বাইরে বেরিয়েছেন, তাঁদের হাত জোর করে ঘরে থাকার আবেদন করছেন একজন পুলিশকর্মী। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝার জন্যও অনুরোধ করছেন তিনি। 

লাঠিপেটা নয়, হাত জোর করে ঘরে থাকার অনুরোধ পুলিশের

Posted by Thepeopletv on Wednesday, March 25, 2020

 

প্রসঙ্গত, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অনেকেই অনেক মন্তব্য করছেন। কিন্তু বলে রাখা ভালো বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে যথেষ্ট চাপে রয়েছেন তাঁরা। নিজেদের কথা না ভেবেই, সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছেন। কিন্তু তাই বলে লাঠিপেটা ! 

চেন্নাইয়ের পুলিশও চাইলে লাঠিপেটা করতে পারতেন। কিন্তু যদি হাত জোর করে ভালো কথায় মানুষকে বোঝানো যায়, তাহলে সেই পথে যাওয়াই ভালো নয় কী ! 

দেশবাসীকে লকডাউন মেনে ঘরবন্দি থাকার জন্য তো হাত জোর করে অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীও। তাহলে লাঠিপেটা কেন !

এই দুই চিত্র দেখে প্রশ্ন উঠছে পুলিশের দিকে। লাঠিপেটা করলেই কী সমস্যার সমাধান হবে ? নাকি চেন্নাই পুলিশের মতো হাত জোর করলেই সামাল দেওয়া যাবে পরিস্থিতি !