দ্য পিপল ডেস্কঃ ২০১৮ সালের উহান সম্মলনের পর এবার মহাবলিপুরমে ভারত সফরে এলেন চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং। দুই দিনের সফরের পর ফের নেপালের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন তিনি।

তবে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে এদিনের বৈঠক পড়শি দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও জড়ালো করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিন কোভালামে সকাল সাড়ে দশটা থেকে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং জিনপিং। প্রায় ৫০ মিনিট ধরে চলে এই বৈঠক।

এদিনের বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন চেন্নাই সামিটে আমাদের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আন্তর্জাতিক এবং বাণিজ্যিক বিষয়ে গুরুত্বপুর্ণ আলোচনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উহান সম্মেলন দুই পড়শি দেশের সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বাস জুগিয়েছে। যা দুই দেশকে নতুন দিশা দেখিয়েছে।

অন্যদিকে চিনা রাষ্ট্রপতির ‘চেন্নাই কানেক্ট’ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করে তুলবে।

পাশাপাশি ভারতের আতিথেয়তায় খুশি প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি জিনপিং। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর এই বৈঠক সফল বলে দাবী করেছেন তিনি।

এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, বিদেশ সচিব বিজয় গোখলে।

একসময় দক্ষিণ ভারতের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র ছিল চেন্নাই। প্রায় ২০০০ বছর আগে দুই দেশের মধ্যে অটুট বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিশ্বের বাজারে খ্যাতি অর্জন করেছিল।

ইতিহাসের কথা স্মরণ করেই দুই দেশের বৈঠক নিজেদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে বলে দাবী করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রত্যেক বছর বিপুল সংখ্যক ভারতীয় মানস সরোবরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। আগামী দিনে ভারতীয়দের মানস সরোবর যাত্রা যেমন একদিকে সংস্কৃতির মিলন ঘটাবে, ঠিক তেমনই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত করে তুলবে বলে মত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির।

এদিন প্রায় এক ঘণ্টা ধরে কোভালামে ফিশারম্যান কোভ রিসর্টে চলে দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠকে আন্তর্জাতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছাড়াও নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন এবং সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা হয়। দুই রাষ্ট্র নেতার মধ্যে প্রায় ৬ ঘন্টা একটানা কথোপকথন চলেছে বলে জানিয়েছেন বিদেশসচিব বিজয় গোখলে।

দেশের মুষড়ে পড়া আর্থিক ব্যবস্থাকে চাঙা করতে এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও অটুট করে তুলতে চিনের ভাইস প্রিমিয়ার হু চুংহুয়া এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের বৈঠক হবে জানালেন বিদেশসচিব। আগামী দিনের এই বৈঠক দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক দেশের আর্থিক পরিকাঠামো বদলে দিতে পারে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

মোদি জিনপিংয়ের এই বৈঠক আগামী দিনে দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও মজবুত করবে বলে মনে করছেন বিদেশসচিব বিজয় গোখলে। এমনকি দুই রাষ্ট্রনেতার পরবর্তী বৈঠকের জন্য রাষ্ট্রপতি জিনপিং ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে জানান বিদেশসচিব।

দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পর প্রশ্ন থেকে গেল জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে। শুরু থেকেই যে বিষয়ের ওপর কূটনৈতিক মহলের নজর ছিল জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে চিন প্রশ্ন তুললে ভারতের পদক্ষেপ কি হবে?

পাশপাশি হংকংয়ের বিষয় নিয়ে ভারত কোনও প্রশ্ন তুলবে কিনা তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কারণ ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর থেকেই ভারতের বিরোধিতায় রাষ্ট্রসঙ্ঘে সরব হতে দেখা গিয়েছে চিনকে।

কাশ্মীর প্রসঙ্গে সর্বদাই চিনকে পাশে পেয়েছে পাকিস্তান। যদিও দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে এবিষয়ে কোনও আলোচনা হয়নি বলে জানিয়ে দেন বিদেশসচিব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here