৩১ অগাস্ট এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হল। তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ১৯ লক্ষ মানুষের। এই বিষয়ে কলম ধরলেন ত্রিপুরার কংগ্রেস নেতা সুবল ভৌমিক।

|| সুবল ভৌমিক||

এই সরকার সবাইকে লাইনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। যা আজ থেকে শুরু হয়নি। এর শুরু নোটবন্দি থেকে। আজকে কোনও মানুষ যখন অন্য কোনও রাজ্যে যাচ্ছে, তা সে যে সরকারই থাকুক না কেন তাঁদের লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।যাদের ডকুমেন্ট রয়েছে তাদের দাঁড়াতে হচ্ছে। আর যাদের নেই তাদেরও দাঁড়াতে হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। যার জন্য দায়ী এই সরকার।

কেউ যদি কোনও জাল নাগরিকপঞ্জি তৈরি করে তাঁদেরকে সেটা প্রশাসনিকভাবে দেখতে হবে। যে এই কাজটি করছে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে হবে। এখন এনআরসির ফলে সব মানুষকে একই লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এটা একটা অনৈতিক পদ্ধতি। কারণ যারা ৪০ বছর ধরে বা তাঁর বেশী সময় ধরে এসে রয়েছেন তাঁর মধ্যে অনেকেই গরিব মানুষ। যাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই অসমে একটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে।

এনআরসি তো তামিলনাড়ুতে হতে পারত, যেখানে লক্ষ লক্ষ শ্রীলঙ্কান এসে জমা হচ্ছে। উত্তরভারতের বহু রাজ্যে এনআরসি চালু করা দরকার। কারণ সেখানেও তো বহু মানুষ পাকিস্তান থেকে এসেছে। তাঁরা এখন ভারতীয় নাগরিক হয়ে গেছে। স্বভাবতই শুধুমাত্র যারা বাঙালি তাঁদের ওপরেই তোপ দাগা হয়েছে। একই ঘটনা ত্রিপুরাতেও।

যাদের নাম নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়ল তাঁরা কোন দেশের? তাঁদের পরিবারের কোন তথ্য রয়েছে? তাঁদের ওপর কি পদক্ষেপ নেওয়া হবে? কোন নথির ওপর ভিত্তি করে তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে? তাঁদের এখন ঠিকানা কি? আগে কেন্দ্রীয় সরকার ঠিক করুক তাঁদের কোন দেশে পাঠানো হবে। যদি অন্য কোনও দেশে পাঠানো হয় তবে কোন দেশে পাঠানো হবে? ভারতবর্ষের মধ্যে থাকলে তাঁদের কোন বিভাগে রাখা হবে? একটা প্রক্রিয়া যখন শুরু হয়েছে তখন শেষটাও তো তাঁদের করতে হবে।

এমনিতেই এনআরসি তালিকায় প্রচুর গলদ রয়েছে। দেখা যাচ্ছে মা বাবার আছে অথচ ছেলের নেই। ছেলের জন্ম হয়েছে। মা বাবার থাকলে তো ছেলের এমনিতেই থাকবে। হাজার হাজার বিষয় নিয়ে মানুষকে হয়রানি করা। আমরা তো সবাই ভারতবাসী । এনআরসির নোটে বলা আছে বাবা, দাদু অথবা পুর্ব পুরুষের সচিত্র পরিচয় পত্র থাকলেই হবে।

যারা এক সময় পুর্ববঙ্গে থাকতেন তাঁরা তো বাংলা বাংলা ভাগের পর এদেশের চলে এসেছেন। আর স্বাধীনতার আগে তো ভারতবর্ষ এক ছিল। আগে তো তাঁরা ভারতীয়ই ছিল। বাংলা ভাগের পর কি তবে আলাদা আইন চালু হল? ভারত ভাগ হলে কি তাঁরা আলাদা হয়ে গেল? ব্রিটিশদের যাওয়ার পর নতুন কোনও তো আইন চালু হয়নি। যেখানে সব বাতিল হয়ে যাবে। তাহলে বাবা-দাদারা যদি ভারতীয় হন তাহলে আমিও ভারতীয়।

সারা দেশজুড়ে নোটবন্দি, জিএসটি, জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। তাঁর প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর পড়েছে। অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। আর বিজেপির অন্দরে নানা গুণীর নানা কথা শোনা যাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট তো দেশের মধ্যে মাইনরিটি লেভেলে মনিটরিং করতে পারে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here