দ্য পিপল ডেস্কঃ বৃহস্পতিবার থেকে জম্মু-কাশ্মীরের উপর থেকে পর্যটন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিনিষেধ তুলে নিল প্রশাসন। অর্থাত্ এবার থেকে ফের ভূস্বর্গের সৌন্দর্য উপভোগ করতে যেতে পারবেন সাধারণ মানুষ।

অমরনাথ যাত্রীদের উপর সন্ত্রাসবাদী হামলা হতে পারে, সূত্র মারফত খবর পেয়ে দ্রুত উপত্যকা থেকে নামিয়ে আনা হয়েছিল পর্যটকদের। গত ২ আগস্ট কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জরুরি ভিত্তিতে গোটা এলাকা খালি করে দেওয়ার নির্দেশ জারি হয়।

এর পর ৫ আগস্ট ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সংবিধান থেকে ৩৫এ ও ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে নেয় কেন্দ্র সরকার। ৪ অগাস্ট থেকে জারি হয় জারি ১৪৪ ধারা।

স্বাভাবিক ভাবেই এর পর উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয় ভূস্বর্গে। নিরাপত্তা বাহিনী, আধাসেনায় মুড়ে দেওয়া হয় গোটা উপত্যকা। রক্তপাত ও প্রাণহানির মতো ঘটনা থেকে দূরে থাকতে সরকার সব প্রচেষ্টা করছে বলে বার বার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক।

রাস্তাঘাট থেকে দোকানপাট, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত সমস্ত বন্ধ রাখা হয়েছিল। এমনকী বিরোধী নেতা-নেত্রীদের পর্যন্ত খোঁজ পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ইন্টারনেট ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়।

ইদে সাধারণ মানুষকে কিছুটা ছাড় দেওয়া হলেও গোটা ব্যবস্থা পরিচালিত হয়েছে কড়া নজরদারিতে। রাহুল গান্ধি, সীতারাম ইয়েচুরির মতো নেতাদের জম্মু-কাশ্মীর যেতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে অনুমতি নিতে হয়েছিল।  

ভূস্বর্গের আনাচেকানাচে তখন বইছে গরম বাতাস। গলতে শুরু করেছে পাহাড়ের বরফ। পর্যটকরা সেখানে যাবেন কীভাবে..

তবে প্রশাসন মনে করছে এখন ঠান্ডা ভূস্বর্গের পরিস্থিতি। জনজীবনও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে। খুলেছে স্কুল-কলেজ, অফিস।

রাজ্য প্রশাসন আজ তিনজন কাশ্মীরী রাজনৈতিক নেতাকে আটক থেকে মুক্তি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) বিধায়ক ইয়াওয়ার মীর, জাতীয় সম্মেলন (এনসি) নেতা নূর মোহাম্মদ এবং কংগ্রেসের শোয়েব লোন।

কাশ্মীরের ডিভিশনাল কমিশনার বশির খান জানিয়েছেন, যেসব জায়গায় সমস্যা রয়েছে সেখানে প্রশাসন কাজ করছে। ৯ অক্টোবরের মধ্যে উপত্যকার সব স্কুল ও কলেজ খোলার চেষ্টা করছে প্রশাসন।

অর্থাত্ উপত্যকাকে ছন্দে ফেরাতে মরিয়া প্রশাসন আর প্রকৃতির সৌন্দর্যের সম্ভার নিয়ে অপেক্ষা করছে জম্মু-কাশ্মীর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here