দ্য পিপল ডেস্ক: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তারপরই নির্বাচন হবে হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্র।এখনও পর্যন্ত যা গতিপ্রকৃতি, তাতে দুই রাজ্যেই এগিয়ে রয়েছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। ২৮৮ আসনের মহারাষ্ট্র বিধানসভায় প্রার্থী হয়েছেন তিন হাজার ২৩৯ জন।

শাসক জোটের মুখ্য শরিক বিজেপি ১৫২ ও শিবসেনা ১২৪ এবং সহযোগী দলগুলি ১২ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোটে কংগ্রেস ১৪৫ এবং এনসিপি ১২৩ আসনে ও অন্যান্য জোট শরিকরা ১২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে অন্যান্য বিভিন্ন দলের দু’হাজার ৬৬৩ জন প্রার্থী।

পশ্চিমের শিল্পসমৃদ্ধ এই রাজ্যে শুরু থেকেই প্রচারে ঝড় তুলেছে বিজেপি।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, রেলমন্ত্রী পিযুষ গোয়েল সহ বিজেপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা এসে রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থীর প্রচারে জনসভা করেছেন।দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশও।অন্যতম জোট শরিক শিবসেনাও জোরকদমে প্রচার করেছে।

এর বিপরীতে শুরু থেকেই প্রচারে পিছিয়ে পড়েছে কংগ্রেস তথা ইউপিএ জোট।দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এ রাজ্যে প্রচারে আসেননি বললেই চলে।দেশে ফিরে রাহুল গান্ধি কয়েকটি জনসভা করেছেন। যদিও বিজেপির ‘হেভিওয়েট’ প্রচারের তুলনায় তা নগণ্য।পাশাপাশি কংগ্রেসের প্রদেশ নেতৃত্ব প্রেস কনফারেন্স ও প্রেস রিলিজ দিয়েই প্রচারের কাজ সেরেছেন।

একই অবস্থা জোট শরিক এনসিপিরও।নির্বাচনের ঠিক আগে কংগ্রেস ও এনসিপির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী দলত্যাগ করার ফলে বেশ কিছুটা শক্তি হারিয়েছে দু’টি দলই।এনসিপি-র হেভিওয়েট নেতা বলতে রয়েছেন শরদ পাওয়ার। বয়সে প্রবীণ এই নেতা দলের শক্তি বৃদ্ধির জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সেটা মোদি-অমিত শাহের প্রচারের কাছে কিছুই নয়।

ফলে দেশের তথা এ রাজ্যের ভয়াবহ আর্থিক দুরবস্থার মধ্যেও কাশ্মীরে ৩৭০ রদ, তিন তালাক ইস্যুকে সামনে রেখে বিজেপিই ফের ক্ষমতা দখল করবে বলে মনে করছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল।তাঁদের মতে, বেকার সমস্যা, লাতুর সহ রাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জলের অভাব, বিপন্ন শিল্প, বিপন্ন পরিবেশ, লাগাতার কৃষকের আত্মহত্যা, কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম, পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সহ সাধারণ মানুষের দাবিগুলি প্রচারে তুলে ধরতে পারলে তার প্রতিফলন ভোটে পড়ত।

কিন্তু লোকসভা ভোটে বিপর্যয়ের দায় নিয়ে সভাপতি রাহুল গান্ধির পদত্যাগের পর ছন্নছাড়া হয়ে পড়েছে কংগ্রেস। অন্যান্য রাজ্যের পাশাপাশি এই রাজ্যেও কংগ্রেসের একধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা দল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে চলে গিয়েছেন। পাশাপাশি একই হাল এনসিপিরও।ফলে সাধারণ মানুষের দাবিগুলি প্রচারে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে ইউপিএ জোট। এই পরিস্থিতিতে এ রাজ্যে কংগ্রেস ও এনসিপি-র এখন অস্তিত্ব রক্ষাই চ্যালেঞ্জ হয়ে যাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।       

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here