দ্য পিপল ডেস্কঃ লোকসভা নির্বাচনে দু’পক্ষের বাদানুবাদে উত্তপ্ত হয়েছিল রাজনৈতিক মঞ্চ। রাফায়েল চুক্তি থেকে শুরু করে একাধিক বিষয় নিয়ে নির্বাচনে পদ্ম শিবিরের অন্যতম মুখ নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করতে পিছপা হননি রাহুল গান্ধী। সেসময় কর্ণাটকের নির্বাচনী মঞ্চ থেকে রাহুল গান্ধীর বলেছিলেন, মোদি পদবীর সকলেই চোর। যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতির এহেন বক্তব্যের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছিলেন সুরাটের বিধায়ক পুর্নেশ মোদি। ‘মোদি’ পদবীর সমস্ত মানুষকে অপমান করেছেন রাহুল, অভিযোগ তোলেন বিজেপি বিধায়ক। বৃহস্পতিবার সুরাট আদালতে পেশ করা হয় রাহুল গান্ধীকে। যদিও শুনানির আগে রাহুলের উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে আদালত।

 

লোকসভা নির্বাচনের পর দলের সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন রাহুল। কার্যকরী সভাপতি পদে আসীন হয়েছেন সোনিয়া গান্ধী। তার ওপর চলতি মাসেই হরিয়ানা এবং মহারাষ্ট্রের নির্বাচন। এরই মধ্যে এদিন সুরাটে প্রাক্তন সভাপতিকে দেখতে কংগ্রেস সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। এদিন আদালতে উপস্থিত হওয়ার পর টুইটারে জানান আমার মুখবন্ধ রাখার জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, নির্বাচনী প্রচারে ললিত মোদি এবং নীরব মোদির কথা উল্লেখ করেই মোদি সরকারের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরতে চেয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। এই দুই জনের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে মোদি সরকার যে ব্যর্থ, তা তুলে ধরার চেষ্টা করেন তিনি। প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে এই মামলা কংগ্রেসের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবী কংগ্রেসের একাংশের। যদিও এভাবে কংগ্রেসকে আটকানো সম্ভব নয়, টুইটারে সাফ বার্তা কংগ্রেসের।

এর আগে ৭৫০ কোটি টাকা নোট বদলের অভিযোগে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে আমেদাবাদ আদালতে মামলা রুজু করেন আমেদাবাদ জেলা কো অপারেটিভ ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান অজয় প্যাটেল। শুক্রবার সেই আমেদাবাদ আদালতে উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতির। এমনকি অমিত শাহ এবং তার ছেলে জয় শাহের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য রাহুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

লোকসভা নির্বাচনের পর গোটা দেশে মাত্র ৫১ টি আসন পেয়েছে কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন অনেকেই। একইসঙ্গে দলের গুরুত্বপুর্ণ পদ থেকে সরে গিয়েছেন একাধিক বর্ষীয়ান নেতা। ফলে দল পরিচালনা করতে গিয়ে নতুন করে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সোনিয়া গান্ধীকে। ভাঙা দলকে জোড়া লাগাতে পুরানো ফর্মে ফিরতে পারবেন কি সোনিয়া? নাকি অন্য কোনও বিকল্পের খোঁজ চালাতে হবে কংগ্রেসকে? সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here