।। গৌতম ভট্টাচার্য ।।

নতুন বছরের গোড়াতেই পুরসভা নির্বাচন। রাজ্যের ১০৭টি পুরসভার ক্ষমতায় কে আসবে তা ঠিক করবেন ভোটাররা। এর মধ্যে কলকাতা এবং বর্ধমান পুরসভাও রয়েছে। বর্ধমানের রাশ তৃণমূলের হাত থেকে কেড়ে নিতে মরিয়া পদ্মশিবির।

এক সময় বর্ধমান ছিল আক্ষরিক অর্থেই লাল দুর্গ।স্বাভাবিকভাবেই পুরসভার রাশও ছিল বামেদের হাতে। পালাবদলের ঢেউ লাগে বর্ধমানেও। পুরসভা হয়ে যায় তেরঙ্গা।এবার সেখানেই পদ্ম ফোটাতে মরিয়া গেরুয়া শিবির।

বর্ধমান পুরসভায় তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত কাউন্সিলর রয়েছেন ৩৫ জন।  লোকসভা নির্বাচনের পরে অবশ্য অঙ্কের নিরিখে পুরসভায় এগিয়ে বিজেপিই। ৩৫ আসন বিশিষ্ট পুরসভার অধিকাংশ আসনেই এগিয়ে বিজেপি। বাকিগুলিতে তৃণমূল। সবকটি ওয়ার্ডেই তৃতীয় স্থানে সিপিএম।জনতার নাড়ি বুঝেই জনমনকে নিজেদের দিকে ধরে রাখতে ময়দানে নেমে পড়েছেন গেরুয়া নেতৃত্ব। ছোট ছোট পথসভা আয়োজনের পাশাপাশি জনতার দরবারে যাওয়াও শুরু করে দিয়েছেন পদ্ম নেতৃত্ব। বিজেপির এক নেতা বলেন, তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের দুর্নীতি এবং ব্যর্থতা নিয়ে মানুষের মনে ক্ষোভ রয়েছে। সেটাই তুলে ধরা হচ্ছে জনতার কাছে। এতে ভালোই সাড়া মিলছে।

লোকসভা নির্বাচনের পর বেশ কিছুদিন মুষড়ে পড়েছিল তৃণমূল।পরে দিদিকে বলো সহ নানা কর্মসূচি চালু করে হারানো জমি পুনরুদ্ধারে নেমে পড়ে তৃণমূল। যদিও লোকসভা নির্বাচনের পর বর্ধমানে সেই অর্থে বড় কোনও কর্মসূচি নেননি বিজেপি নেতৃত্ব।তবে পুরভোটের সম্ভাবনা যত জোরালো হচ্ছে, ততই শক্তি বাড়িয়ে পুরসভা দখলে ঝাঁপাচ্ছেন তাঁরা।

বাম জমানায় বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন আইনুল হক। বর্তমানে শিবির বদলে তিনি বিজেপিতে। গোটা বর্ধমান শহরের নাড়িনক্ষত্র পর্যন্ত চেনেন আইনুল। তাঁর সেই অভিজ্ঞতাটাকেই কাজে লাগাতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

শুধু তাই নয়, শহরের বিশিষ্টজনেদের সঙ্গেও ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করতে শুরু করে দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব।যাতে দল সম্পর্কে তাঁদের মধ্যে কোনও ক্ষোভ না জন্মে। তাছাড়া, বিশিষ্টজনেদের মান্যতা পেলে পুরভোটে জয় হবে অনায়াস।

পিকের পরামর্শ মেনে গ্রামে গিয়ে রাত কাটিয়েছেন তৃণমূল নেতারা। শুনেছেন মানুষের অভাব-অভিযোগ। সেই মতো ব্যবস্থাও নেওয়া শুরু হয়েছে।তৃণমূলকে টেক্কা দিতে বিজেপি নেতৃত্বও যোগাযোগ শুরু করেছেন জনতার সঙ্গে। দলীয় সূত্রের খবর, বর্ধমান শহরের বাসিন্দারা যে বিজেপিকে চাইছেন, তা লোকসভা নির্বাচনের ফলেই স্পষ্ট। পুরসভা দখলের লক্ষ্যে সেই টেনশনটাই ধরে রাখতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here