দ্য পিপল ডেস্কঃ পুজোর মরশুমে বোনাস নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে বসে কলকাতায়। ২০ শতাংশ বোনাসের দাবীতে সরব হয় চা বাগানের শ্রমিকরা। কিন্তু ভেস্তে যায় বৈঠক। তারপর থেকেই চলছে একটানা বিক্ষোভ। এখনও অবধি অনশনে অনড় গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিনয় তামাং। ক্রমশ উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে পাহাড়ের পরিস্থিতি।মালিকপক্ষ ২০ শতাংশ বোনাস না দিলে আন্দোলন আরও বাড়বে। হুঁশিয়ারি দিলেন বিনয় তামাং।

১৭ অক্টোবর পুনরায় ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিক্ষোভের আকার ক্রমশ বাড়তে থাকায় শুক্রবার বৈঠকের ডাক দিল শ্রম দফতর। যেখানে মালিক পক্ষ সহ সাতটি শ্রমিক ইউনিয়ন উপস্থিত থাকবেন এদিনের বৈঠকে।

উৎপাদন হলেও পাহাড়ের কোনও কারখানা থেকে চা বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সঙ্গে বৈঠক হয় কেন্দ্রীয় কমিটির। ২০ শতাংশ বোনাসের দাবী না মেনে নিলে এবারের আন্দোলন ২০১৭ কে ছাপিয়ে যাবে। হুঁশিয়ারি মোর্চার বিনয়পন্থীদের। এরপরই কলকাতার সেক্রেটেরিয়ট বিল্ডিংয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেই বৈঠক ফলপ্রসু না হলে পাহাড় স্তব্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে মোর্চার তরফে।

তবে এদিনের বৈঠক কার দিকে পাল্লাভারি করবে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ নিজেদের অবস্থানে অনড় বাগান মালিক সংগঠন। এর আগে ২০১৭ সালে টানা ১০৮ দিন বন্‌ধের জেরে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পাহাড়ের পরিস্থিতি। শুধুমাত্র চা শিল্প-ই নয়, ভেঙে পড়ে পর্যটন ব্যবস্থাও।

এর আগে বাগান কর্তৃপক্ষের তরফে ১৫ শতাংশ বোনাসের দাবী করা হয়। কিন্তু সেবারেও ইউনিয়নের তরফে ২০ শতাংশ বোনাসের দাবী করা হয়। পড়ে মালিকপক্ষের তরফে অগ্রিম ১২ শতাংশ বোনাসের কথা জানানো হলেও নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে শ্রমিক সংগঠন।

প্রত্যেক বছরের মতই চা বাগানের মালিক পক্ষের সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনের বৈঠকের পরেই বোনাস স্থির করা হয়। সূত্রের খবর, ৩০ শে অগাস্ট থেকে পাঁচ দফায় বৈঠক হলেও কোনও রফাসুত্র মেলেনি। একটানা অনশনের জেরে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা নেতা বিনয় তামাংয়ের শারীরিক পরিস্থিতি সংকটজনক। যদিও শ্রমিকদের স্বার্থে আমরন অনশন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

তাঁদের দাবী মেনে না নেওয়া অবধি চা বাইরে যেতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় শ্রমিক সংগঠন। ফলে পাহাড়ের বাইরে চা না যাওয়ায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে মালিকদের। প্রথমবার সমস্ত চা শ্রমিক সংগঠনের ডাকা বৈঠকের জেরে উত্তপ্ত গোটা পরিস্থিতি। তবে পাহাড় নিয়ে কি পদক্ষেপ নেয় সরকার। তা দেখার জন্য মুখিয়ে রাজ্য।

এ বিষয়ে জন আন্দোলন পার্টির নেতা হড়কা বাহাদুর ছেত্রীর সঙ্গে কথা বলে দ্য পিপল টিভি। তিনি বলেন, ভীষণ দুঃখের কথা পুজো শেষ হয়ে গেলেও চা শ্রমিকরা এখনও অবধি বোনাস পায়নি। যখনই মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা হচ্ছে তখনই তাঁরা বলছেন ১০৪ দিন বন্ধ থাকায় তাঁদের ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু ১০৪ দিন তো ২০১৭ সালে বন্ধ ছিল। ২০১৮ সালে চায়ের ব্যবসা লাভজনক হয়েছে। শ্রমিক সংগঠনের পাশে দাঁড়িয়ে বিনয় তামাং একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা তাঁকে সমর্থন জানাই। কারণ তিনি যে কারণে আন্দোলন করছেন সে কারণ একেবারে যুক্তিযুক্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here