..স্নেহাশ্রী বিশ্বাস..
পুজোর গন্ধ ছাপিয়ে ভোটের গন্ধ ভাসছে গোটা রাজ্য, ভাসছে পাহাড়।
রাজ্য ভাগ কোনভাবেই মানবেন না, আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সরকারে  আসার আগে যখন তিনি বিরোধী নেত্রী ছিলেন, তখনই গোর্খাল্যান্ডের  চাওয়াকে নস্যাৎ করে দিয়েছিলেন।
তিনি বলেছেন, এদের আলাদা সুযোগ সুবিধা দেওয়া যেতে পারে কিন্তু কোনোভাবেই গোর্খাল্যান্ড নামে আলাদা রাজ্যের চাহিদা মানবেন না।
কিন্তু ভোটের মরশুম আসলেই বার বার  ফিরে আসে গোর্খাল্যান্ড প্রসঙ্গ।
বিজেপি তাকেই সামনে আনছে। সংসদে বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তার বক্তব্য তার উজ্জ্বল প্রমাণ।
রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে আসন সংখ্যা বাড়াতে ময়দানে নেমে পড়েছে বিজেপি।
লোকসভা যেমন পাহাড়ে ভালো আসন পেয়েছেন তেমন বিধানসভা নির্বাচনেও  আসন সংখ্যা বাড়াতে মরিয়া গেরুয়া শিবির।
বামেরা ৩৪ বছর রাজত্ব করলেও গোর্খাল্যান্ড তারা দেয়নি।
ক্ষমতায় এসে সেখানকার মানুষের উন্নয়নে জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
লোকসভা নির্বাচনে ধাক্কা খেয়ে সরকারি চাকরি সহ অনেক সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়েছেন পাহাড়ে।
কিন্তু ভবি ভোলার নয়। কংগ্রেসের সংগঠন তলানিতে এস ঠেকেছে।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী দিল্লিতে রাজনীতি করতে ব্যস্ত।
এরাজ্যের জন্য সময় দিতে পারছেন না তিনি।
পাহাড়ের অশান্তি শক্ত হাতে দমন করলেও রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্বও সেই অর্থে গোর্খাল্যান্ডের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করতে তোড়জোর করেনি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও সেই একই অবস্থা, পাহাড়কে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু গোর্খাল্যান্ড নৈব নৈব চ।
এদিকে ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমেছে বামেরা।
সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র।
সঙ্গে ছিলেন  শিলিগুড়ি পুরো নিগমের বর্তমান প্রশাসক অশোক ভট্টাচার্য, বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী।
সেখানে তাঁরা বলতে চাইছেন, বাম আমলে অনেক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। সেগুলি আজ আর নেই।
তুলনায় তৃণমূল সরকার কাজ করেছে অনেক কম।
তবে সুযোগ-সুবিধা না থাকলে পাহাড় এত নিশ্চুপ হয়ে আছে কি করে? এই প্রশ্নের উত্তর দেননি সূর্যকান্ত মিশ্র।
একে লকডাউন, মানুষের মৃত্যু মিছিল। তার ওপর আর্থিক সঙ্কট। এই সুযোগে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাচ্ছে বামেরা।
গোর্খাল্যান্ডের আন্দোলনকে  নিয়ন্ত্রণ করা, স্তিমিত করা, হ্যান্ডল করার পরিস্থিতিতে বামেরা এই মুহূর্তে না থাকলেও তারা বুঝতে পারছে এই বিষয়টি তাদের সুযোগ করে দিতে পারে।
সুযোগ না দিতে পারলেও তৃণমূল ও বিজেপির ভোট কিছুটা হলেও নিজেদের দিকে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। বা তৃণমূল, বিজেপি লড়াই বাড়িতে পারে।
কিন্তু পাহাড়ের সমীকরণ সহজ নয়। এক সময় জিটিএ (GTA)-র মাধ্যমে বিমল গুরুং ও সহকর্মীদের কাজের সুযোগ দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কিন্তু তারপর একাধিক অভিযোগে পাহাড় ছাড়া হন বিমল গুরুং। তাঁকে নাকি দিল্লিতে দেখা যাচ্ছে।
শোনা যাচ্ছে,  বিজেপি নেতারা আমন্ত্রণ জানাচ্ছে বিমল গুরংকে।
প্রকাশ্যে সেভাবে গুরুংকে দেখা না গেলেও মনে করা হচ্ছে পাহাড় ধরে রাখতে বিমল গুরুংকে কাজে লাগাতে চায় বিজেপি।
শুধু পাহাড় নয়, রাজ্যে ক্ষমতা দখলের জন্য বিজেপির পাখির চোখ হচ্ছে গোটা উত্তরবঙ্গ।