দ্য পিপল ডেস্কঃ সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। হারের কারণ খুঁজতে প্রায়ই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তার পরেও ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে জয় নিশ্চিত এমন কথা জোর গলায় বলতে পারছেন না তৃণমূল নেতৃত্বও। বরং ওই নির্বাচনে রাজ্যে পদ্মের রমরম হবে বলেই আশায় বুক বাঁধছেন বিজেপি নেতৃত্ব।

২০২১এও যাতে নবান্নে ফেরা যায় তা নিশ্চিত করতে চাইছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।সেই কারণেই ইলেকশন স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোরকে প্রায় পাঁচশো কোটি টাকার বিনিময়ে নিয়োগ করা হয়েছে। খোদ তৃণমূল নেত্রী অবশ্য প্রশান্ত কিশোর (যাঁকে পিকে বলেই ডাকছেন তৃণমূল কর্মীরা)কে নিয়োগ করা হয়েছে বলে স্বীকার করছেন না। টাকাও দেওয়া হচ্ছে না বলে তৃণমূলেরই একটি সূত্রের দাবি।

সে যাই হোক, তৃণমূল সূত্রের খবর, এই পিকে নাকি কথা দিয়েছেন ২০২১এ নবান্নের কুর্সিতে তিনি তৃণমূল নেত্রীকেই ফিরিয়ে আনবেন! সেজন্য অবশ্য তাঁর দেওয়া নিদান মেনে চলতে হবে দলীয় নেতৃ্ত্বকে। তাতে নাকি খোদ তৃণমূল নেত্রী রাজিও হয়েছেন!

মমতাকে নবান্নে ফেরাতে কী ছক কষছেন পিকে ? তৃণমূল সূত্রের খবর, প্রথমেই তিনি দলনেত্রীকে জানিয়ে দিয়েছেন বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত মমতা যেন মুখে কুলুপ এঁটে থাকেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পিকের দেওয়া সেই নিদান মেনেই মাহেশের রথে গিয়ে জয় শ্রীরাম ধ্বনি শুনেও কোনও প্রতিক্রিয়া দেখাননি মমতা। নুসরতকে কোনও এক মৌলবির দেওয়া ফতোয়ার কথা শুনেও স্পিকটি নট দলনেত্রী। আগে পান থেকে চুন খসলেই রিঅ্যাকশান দিতেন মমতা। ইদানিং তাতে ভাঁটা পড়েছে বলে তৃণমূলেরই অন্দরের খবর। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এসবই পিকে এফেক্ট।

কিছু দিন আগেও তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। এখনও আছে। তার পরেও দল যাতে হীনবল না হয়ে পড়ে সেজন্য যুবশক্তির ওপর নজর দিতে চাইছে ঘাসফুল শিবির। পিকের পরামর্শ মেনে বিধানসভা নির্বাচনের আগে অন্তত ৫ লক্ষ তরুণ-তরুণীকে তৃণমূলে ভেড়ানোর চেষ্টা চলছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তৃণমূলে যোগ দিলে চাকরি মিলবে, এই আশায় দলে দলে বেকার যুবক যুবতী চলে আসবেন ঘাসফুলের ছাতার তলায়। বছর দশেক আগে ঠিক যে কারণে ছেলেমেয়েরা এসএফআইতে যোগ দিতেন!

পিকের পরামর্শ মেনেই জট খুলেছিল এনআরএসকাণ্ডের। তাই পিকের ওপর ভরসা বেড়েছে মমতার। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই কারণেই তিনি পিকের স্যারের গাইডলাইন মেনে চলছেন বাধ্য ছাত্রীর মতো !