দ্য পিপল ডেস্কঃ হাসরসের ঘটনায় উত্তাল দেশ। রাতের অন্ধকারে জঙ্গলে নির্যাতিতার দেহ পুড়িয়ে দেওয়ায় প্রশ্নের মুখে যোগী সরকার।

কংগ্রেস, তৃণমূলের বিরোধী নেতৃত্ব সহ সংবাদমাধ্যমকে নির্যাতিতার পরিবারের কাছে যেতে বাধা দেওয়ার ঘটনাও চাক্ষুষ করেছে গোটা দেশ।

স্বাভাবিকভাবেই বড়সর প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রের ও উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকার।

উত্তরপ্রদেশে দলিত নির্যাতন নতুন নয়, নারী ধর্ষণ রোজকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাথরাসের নির্যাতিতার পরিবার বলছে, তারা চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। বার বার তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ, জেলাশাসক পর্যন্ত নির্যাতিতার পরিবারকে হুমকি দিয়েছেন বয়ান বদলাতে।

প্রশ্ন উঠেছে, প্রশাসন কীভাবে এমন করতে পারে? রাজ্য সরকার প্রশাসনকে একেবারে নিজেজের কুক্ষিগত করে রেখেছে।

আসন্ন বিহার বিধানসভা ভোটে সব রাজনৈতিক দলের কাছেই এই ঘটনা যে বড় রকমের হাতিয়ার হবে তা বলাই বাহুল্য।

এই ঘটনা বিহার নির্বাচনের হিসেব অদলবদল করে মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাহুল গান্ধি থেকে লালু প্রসাদ যাদব, শত্রুঘ্ন সিনহারা প্রচাবে নামবেন তা স্বাভাবিক।

বিহারের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার বিজেপির সঙ্গে গাঁটছড়া বেধেছি্লেন আগেই। তা এখনও অটুট আছে।

স্বাভাবিক ভাবেই বিরোধীরা পুরো ঘটনা নিয়ে প্রশ্নের মুখে ফেলবে একই সঙ্গে নীতিশ কুমার ও মোদি সরকারকে।

বিজেপির উপর সাধারণ মানুষের আস্থা হারানোয় এবারের ভোটে তাই বন্ধুত্ব নিয়েই বেশ চাপে নিতীশ কুমারের সরকার।

বিহারের দলিতরাও যে এই ঘটনা নিয়ে সোচ্চার হবেন এবং সেই প্রভাব ভোটের অংকে পড়বে তা নিয়ে ইতিমধ্যে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

পিছলে বর্গের ভোট বরাবরই এক্স-ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে, সে বিহার হোক বা উত্তরপ্রদেশ বা অন্য কোনও রাজ্যে।

সেক্ষেত্রে আসন্ন বিহার বিধানসভা ভোটেও যে বিরোধীদের সুর চড়া হবে তা বোঝাই যাচ্ছে।

ইতিমধ্যে রাহুল গান্ধিকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া নিয়ে শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত জানিয়েছেন, দেশের গণতন্ত্র ধর্ষিত।

এরাজ্যেও পদযাত্রা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোরাল কন্ঠে বার্তা দিয়েছেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এক দেশ এক জাতির কথা বলে, কিন্তু গণতন্ত্রের কথা বলে না।

মমতা বলেন, যে দেশে বিরোধীদের কন্ঠ রোধ করা হয় সেদেশে গণতন্ত্র শেষ হয়ে গেছে।

বোঝাই যাচ্ছে, শুধু বিহার ভোটে নয়, ২০২১ এ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটেও হাতিয়ার হতে চলেছে হাথরাসের ঘটনা।