The people tv digital desk: বর্তমান সময়ে কেউ নিজের বাইক বা গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ছেন, আবার কেউ ট্রেন বা বাসে পৌঁছে যাচ্ছেন স্বল্পখ্যাত বা অজানা কোনও ডেস্টিনেশনে। এরকমই এক অখ্যাত, অথচ অনন্য সুন্দর এক জায়গার সন্ধান দেব আপনাদের।

কেরলের অলেপ্পির নাম তো অনেকেই শুনেছেন, কিন্তু জানেন কি এই বাংলাতেই আছে সেরকম এক জায়গা? হ্যাঁ, আজ আপনাদের জানাবো সেই জায়গা সম্পর্কে।

উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা, কলকাতা থেকে খুব বেশি দূরে নয়। শিয়ালদা বা দমদম থেকে লোকাল ট্রেনে কমবেশি এক ঘন্টা। এই গোবরডাঙার কাছেই আছে একটি অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ। ভারত-বাংলাদেশ-লাগোয়া ‘বেড়ি পাঁচপোতা’।

যত দূর চোখ যায়, শুধুই সবুজের সমারোহ আর বিস্তৃর্ণ জলাভূমি। এক পলকেই চোখে জুড়িয়ে যায়। ওই অশ্বখুরাকৃতি একটি হ্রদটিকে স্থানীয়রা ডাকেন ‘বাওর’। দিগন্ত বিস্তৃত চপল জলরাশি।

স্থানীয় জনশ্রুতি, বহুকাল আগে এখানে একটি বন্দর বা পোতাশ্রয় ছিল। রাজা প্রতাপাদিত্য একসময় ইছামতী নদী ধরে এখানে এসেছিলেন। ওপারে বাংলাদেশ, এ পারে দাঁড়িয়ে দূর থেকে ও দেশের গাছ-গাছালি বাড়ি ঘর, হলুদে ভরা সর্ষে খেত দেখা যায়। রয়েছে প্রাচীন কালী মন্দির এবং রামকৃষ্ণ মিশন মঠ। তাই একদিনে ঘোরার প্রচুর রসদ বেড়ি পাঁচপোতায়।

সাড়ে সাত কিলোমিটার লম্বা বিল ও চারপাশের প্রান্তর দেখে মনে হবে যেন এক টুকরো কেরল।যে দিকে তাকানো যায় জল আর সবুজের সমারোহ। শান্ত নির্জন পরিবেশে নৌকার বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আপনাদের পৌঁছে দেবে অলেপ্পি বা ভেনিসে।

স্থানীয় লোকজন এই জলাশয়ে মাছ চাষ করেন। ফলে টাটকা মাছের স্বাদ চেটেপুটে উপভোগ করতে পারবেন।নৌকাই এই অঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসা। চাইলে ইছামতি নদী পর্যন্ত চলে যাওয়া যায় নৌকায় চেপে।

স্থানীয়রা ইতিমধ্যেই করেকটি হোম স্টে তৈরি করে ফেলেছেন। আবার এক সংস্থা ওই বাওরের পাশে কয়েকটি কটেজ তৈরি করছে। ফলে আগামীদিনে এই বেড়ি পাঁচপোতাই ‘বাংলার অলেপ্পি’ নামে বড় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দেখা যাবে বলেই আশা এলাকাবাসীর।