।। গৌতম ভট্টাচার্য ।।

বেনোজল ঢুকছে দলে। এতে বিজেপির দশা হতে পারে তৃণমূলের মতো। দল যাতে লাটে না ওঠে, সেজন্য ছাঁকনি বসাল বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বেনোজল রোখার।

লোকসভা নির্বাচনে গোটা দেশেই চোখ ধাঁধানো ফল করেছে বিজেপি। পদ্মশিবির একাই পেয়েছে ৩০০টি আসন। গেরুয়া শিবিরের এই উত্থানের পর বিভিন্ন দল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার হিড়িক পড়েছে। অল্প কয়েকদিনেই আড়েবহরে বেড়েছে দল।

পশ্চিমবঙ্গেও ভালো হয়েছে দলের স্বাস্থ্য। এখানেও প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও তৃণমূল সহ অন্য রাজনৈতিক দল ভেঙে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন কেউ না কেউ।

এতেই শুরু হয়েছে বিপত্তি। অন্য দল থেকে আসা লোকজনকে মেনে নিতে পারছেন না বিজেপি কর্মীদের একাংশ। কিছুদিন আগেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন লাভপুরের বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। তারও আগে দিল্লিতে গিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র।এই দুই নেতার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই প্রকট হয়েছে বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব।বীরভূম এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে বিক্ষোভও দেখান বিজেপি কর্মীদের একাংশ। বিপ্লব বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় গেরুয়া শিবির ছেড়ে ফের সিপিএমে ভিড়েছেন বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী।

বিপদ আঁচ করে ইস্তফা দেন মনিরুল।যদিও তাঁর ইস্তফাপত্র গৃহীত হয়নি। বরং তাঁকে কিছুদিন চুপচাপ থাকতে বলা হয়েছে বিজেপির তরফে। তবে দক্ষ সংগঠক বিপ্লব মিত্রকে এসব কিছু বলা হয়নি। তাই তিনি কাজ করছেন দাপটের সঙ্গে।

তবে এই অশান্তি যে বরদাস্ত করা হবে না, তাও জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের সাফ কথা, দল বাড়াতে গেলে কিছু বেনোজল ঢুকবেই। তবে বেনোজল আটকাতে ছাঁকনি ব্যবহার করার কাজও শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আপাতত বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষই ছাঁকনির কাজ করবেন। এবার থেকে কারা দলে যোগ দেবেন, কাদেরই বা বাদ দেওয়া হবে, তা ঠিক করবেন দিলীপই।

বিজেপি সূত্রের খবর, যে সব নেতার গায়ে দুর্নীতির কালিমা লেগেছে, তাঁদের আপাতত নেওয়া হবে না। কলঙ্ক না মোছা পর্যন্ত এঁদের অপেক্ষা করতে হবে। এখন থেকে আর চাইলেই বিজেপিতে ঢুকে যাওয়া যাবে না। আবেদন করার পর যাচাই করা হবে আবেদনপত্র। তার পরেই ঠিক হবে, সেটি গৃহীত হবে নাকি বাতিল বলে গণ্য হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here