।। উদয়ন গুহ, তৃণমূল বিধায়ক, দিনহাটা ।। 

৩১ শে অগাস্ট অসমে এনআরসি লাগু করে কেন্দ্র। এনআরসির চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়েন ১৯ লক্ষের অধিক মানুষ। নাগরিক পঞ্জির তালিকা থেকে বাদ পড়ায় এবার মাথার ওপর ছাদ খুঁজে বেড়াচ্ছেন ১৯ লক্ষের অধিক মানুষ। “অসমের আকাশে বিষ” আজ লিখছেন দিনহাটার তৃণমূল বিধায়জক উদয়ন গুহ।

এনআরসির মাধ্যমে মুলত বাঙালির ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে। যাদের ওপর এনআরসি লাগু করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৯৫ শতাংশের অধিক বাঙালি। পরিষ্কার চক্রান্ত চলছে এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এরা আগে ধর্মের নামে মানুষের মধ্যে বিভেদের সৃষ্টি করেছে। তারপর যাতে না তাঁরা এক হতে পারে তাই আক্রমণ করে চলেছে। এদের মুল লক্ষ্য বাঙালি।

এখন মানুষের মধ্যে ধর্মের ইন্ধন ঢুকিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করা হয়েছে। সেকারণেই ভারতের ওপর আক্রমণ করা হল। ১৯ লক্ষ বাঙালিকে যদি আজ দেশ ছাড়তে হয় তাহলে তাঁদের পরিস্থিতি কি হবে? ওদের টার্গেট তো বাংলা। সেখানে আরও বেশী মানুষকে নাগরিকপঞ্জীর তালিকা থেকে বাদ দিতে চাইছে সরকার। এর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে এক হতে হবে। আমাদের রক্ত ঝড়বে তবুও লড়াই চলবে।

বিগত পাঁচ বছরে নোটবন্দি, আর্থিক মন্দা, টাকার দাম কমে যাওয়া এবং জম্মু-কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর দেশজুড়ে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা থেকে মোড় ঘোরানোর জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর আগে দেশের ওপর দিয়ে যে পরিমাণ ঝড়ঝাপটা গেছে কিন্তু দেশের মধ্যে এরকম অবস্থা এর আগে তৈরি হয়েছে বলে আমার মনে পড়ছে না। সেইসঙ্গে দেশের এরকম আর্থিকব্যবস্থা এর আগে এভাবে ভেঙে পড়েছে বলে আমার মনে পড়ছে না।

অসম থেকে বাঙালিকে তাড়ানো হচ্ছে । যার প্রভাব এসে বাংলার ওপর পড়ছে। বাংলায় জনসংখ্যা ক্রমশ বাড়তে শুরু করেছে। সেকারণেই জিনিসপত্রের দাম বাড়তে শুরু করেছে। দেশভাগের পর মানুষের মাথার ওপর ছাদ খুঁজে বেড়িয়েছে। সেই পরিস্থিতি এখনও তৈরি হবে। জমির দাম আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়াবে। আমাদের দলনেত্রী যেমন নির্দেশ দেবেন এর বিরুদ্ধে আমরা সেভাবেই মোকাবিলা করব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here