লোকে বলে, তিনি ভেঙেছেন সুখের ঘর। আমরা বলি, তিনি রচনা করেছেন বন্ধুত্বের নয়া সংজ্ঞা। লোকে বলে, তিনি কালবৈশাখী। আমরা বলি, কাঠফাটা রোদ্দুরে তিনি স্বস্তির বৈশাখী হাওয়া। লোকে বলে, রাজনীতির আঙিনায় তিনি নতুন। আমরা বলি, তাঁর নয়া পদচারণা রচনা করবে রাজনীতির নতুন অধ্যায়। তিনি বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাত্রছাত্রীদের কাছে যিনি আদরের বৈশাখীদি, তিনিই কলকাতার প্রাক্তন মেয়রের বন্ধুনী। নিন্দুকের মুখে ছাই দিতে এবার কলম ধরলেন হেভিওয়েট রাজনীতিবিদ বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। উগরে দিলেন আগুন। কেবলমাত্র পিপল টিভির হোম পেজে।শুরু হল নয়া ধারাবাহিক (কাল)বৈশাখী হাওয়া।

আজ ষষ্ঠ পর্ব

                                              ||বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়||

প্রেসিডেন্সিতেই প্রথম আমি পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাতায়াত করতে শুরু করি। আমাদের তখন ৩ টে গাড়ি ছিল। আমি বাবাকে বললাম, যাতায়াতের জন্য আমাকে যদি একটা গাড়ি দেওয়া যায়। বাবা বললেন, তোমাকে পাবলিক ট্রান্সপোর্টেই যাতায়াত করতে হবে। আমার মায়ের যুক্তি ছিল, তোমার এমন জায়গায় বিয়ে হল তাদের কোনো গাড়ি নেই, সেক্ষেত্রে তুমি তখন বলতে পার আমার বাবার বাড়িতে গাড়ি ছিল, তোমাদের  নেই। তাতে অশান্তি তৈরি হবে। তাই নিজেকে সবরকম পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য তৈরি রাখ। 

প্রথম পর্বঃ একাকিত্ব গ্রাস করেছিল এই বৈশাখীকেই

বাবার বৈভব থাকলেও, আমার মা কোনও দিন বাবার কাছ থেকে একটা সুতোও নেননি। বাবা গাড়িতে যাতায়াত করলেও, মা যাতায়াত করতেন চাটার্ড বাসে। আমার মা ফেমিনিস্ট ছিলেন না। তবে স্বাধীনচেতা। এটা আমার ভালো লাগত। আমিও মায়ের মতোই হয়েছি। আমি নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তবে উগ্র নারীবাদী আমি কোনওকালেই নই। নারীত্বের বিষয়ে আমার একটা অহংকার অবশ্য রয়েছে। আমি মনে করি, প্রকৃতি অত্যন্ত নিপুনভাবে মেয়েদের সাজায়। তাই সেটার সম্মান বজায় রাখাও জরুরি। 

দ্বিতীয় পর্বঃএই বৈশাখীই কান্না লুকিয়ে রাখে হাসি চাপা দিয়ে

পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাতায়াতের ক্ষেত্রে আমি ভাবলাম, জিনস প্যান্ট পরে যাতায়াত করাই সুবিধাজনক হবে। এতে প্রথমেই আপত্তি জানালেন আমার বাবা। আমি খুব দুঃখ পেয়েছিলাম। জেদের চোটে বলেছিলাম, আমাকে যতক্ষণ না জিনস দেওয়া হবে, আমি কলেজ যাব না। বাবা বললেন, তোমাকে কলেজ যেতে হবে না। মুর্খ হয়ে বাড়িতে বসে থাক। বাড়ির অনুশাসন তোমাকে মানতেই হবে।

তৃতীয় পর্বঃচোখে চোখ রেখে কথা বলেছি মুখ্যমন্ত্রীরও

রপর আমি সপ্তাহে একদিন করে শাড়ি পরা শুরু করলাম। প্রেসিডেন্সিতে এটা বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়াল। কারণ আমার ব্যাচে আমিই একমাত্র শাড়ি পরতাম। লোকে মনে করত, বাংলা কিংবা সংস্কৃত যারা পড়ত, তারাই বোধহয় শাড়ি পরে যাতায়াত করত। তবে শাড়ি যে একটা অসাধারণ ফ্যাশন হতে পারে, সেটা আস্তে আস্তে অন্য ডিপার্টমেন্টগুলোও বুঝতে শুরু করল।

চতুর্থ পর্বঃ‘এ মেয়েকে নিয়ে ঘর করবে কে?’

আমি যেমন নিয়ম করে সপ্তাহে একদিন করে শাড়ি পরতাম, আমার বন্ধুরাও তখন বছরে একদিন করে শাড়ি পরা শুরু করল। আমার টিচাররা বলতে শুরু করলেন, বেশ কয়েকবছর পর দেখলাম একটি মেয়ে অন্তত ভালোবেসে শাড়ি পরে আসে।

পঞ্চম পর্বঃ প্রেসিডেন্সিতেই প্রথম ছেলেদের সঙ্গে আলাপ

প্রেসিডেন্সির প্রথম দিনটা আমার খুব মনে পড়ে। ওরিয়েন্টশনের ক্লাস নিচ্ছিলেন অমলকুমার মুখোপাধ্যায়। তিনিই আমাদের প্রিন্সিপাল ছিলেন। তিনি হলে দাঁড়িয়ে বললেন, এই কলেজে বিবেকানন্দ পড়েছেন, রবীন্দ্রনাথ পড়েছেন, অমর্ত্য সেন পড়েছেন। আমি তখন ভাবছি এই মহাপুরুষরা যেখানে পড়াশোনা করেছেন, সেখানে আমি কীভাবে কী পড়ব? ধীরে ধীরে ভয়টা আমার মধ্যে জাঁকিয়ে বসে। তাই আমি পিছিয়ে পড়ছিলাম।

                                                                                                                   (ক্রমশ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here