লোকে বলে, তিনি ভেঙেছেন সুখের ঘর। আমরা বলি, তিনি রচনা করেছেন বন্ধুত্বের নয়া সংজ্ঞা। লোকে বলে, তিনি কালবৈশাখী। আমরা বলি, কাঠফাটা রোদ্দুরে তিনি স্বস্তির বৈশাখী হাওয়া। লোকে বলে, রাজনীতির আঙিনায় তিনি নতুন। আমরা বলি, তাঁর নয়া পদচারণা রচনা করবে রাজনীতির নতুন অধ্যায়। তিনি বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাত্রছাত্রীদের কাছে যিনি আদরের বৈশাখীদি, তিনিই কলকাতার প্রাক্তন মেয়রের বন্ধুনী। নিন্দুকের মুখে ছাই দিতে এবার কলম ধরলেন হেভিওয়েট রাজনীতিবিদ বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। উগরে দিলেন আগুন। কেবলমাত্র পিপল টিভির হোম পেজে।শুরু হল নয়া ধারাবাহিক (কাল)বৈশাখী হাওয়া।

আজ পঞ্চম পর্ব

||বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়||

প্রেসিডেন্সি কলেজেই আমি প্রথম কো-এড অ্যাটমস্ফিয়ারের সঙ্গে পরিচিত হই। এর আগে এমন পরিবেশ কখনও পাইনি। আগেই বলেছি, আমি পরিবার খুব রক্ষণশীল। তাই বাড়িতে বন্ধু- বান্ধব এনে আড্ডা দেওয়া বা খেলাধুলা করতে যাওয়া এসবের অনুমতি আমাদের কোনওদিনই ছিল না। আমাদের যা করতে হত, সবটাই বাড়ির ছোট্ট পরিসরে। তাই আমরা পড়াশুনা, নাচ- গান এসব নিয়েই থাকতাম। জন্মদিন উপলক্ষে কোনও বন্ধুর বাড়ি গেলে বাবা দিয়ে আসতেন। আধ ঘণ্টা পরে বাবাই সেখান থেকে নিয়ে চলে আসতেন। প্রেসিডেন্সি-জীবনের আগে কোনওদিন আমরা বন্ধুদের সঙ্গে বের হইনি।

উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট বেরনোর পরে আমি আবেদন করেছিলাম সেন্ট জেভিয়ার্স, বের্ব্রন আর প্রেসিডেন্সিতে। জেভিয়ার্সে প্রথম লিস্ট বেরয়। বাবা চেয়েছিলেন আমি ওখানেই ভর্তি হই। কারণ এখান থেকে বাবার অফিস খুব কাছে। আমার ওপর নজর রাখতে সুবিধা হবে। আমি সেটা চাইনি। কারণ আমার তখন মনে হয়েছিল, একটা স্বাধীন সত্তা গড়ে তোলা আমার ভীষণ দরকার। তার জন্যই এই জায়াগাটা থেকে বেরিয়ে আসা খুব দরকার। আমি ঠিক করি, বের্ব্রনে ভর্তি হব।

(কাল)বৈশাখী হাওয়া, প্রথম পর্বঃ একাকিত্ব গ্রাস করেছিল এই বৈশাখীকেই

যেহেতু গার্লস স্কুলে পড়াশোন করেছি, তাই বের্ব্রনের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে আমার কোনও অসুবিধা হবে না। আগে কখনও ছেলেদের সঙ্গে মেলামেশা করিনি। তাই একটা অদ্ভুত ভয় কাজ করত। তবে মা বলেছিলেন, প্রেসিডেন্সিতে যদি সংস্কৃতেও আমার নাম ওঠে, তাহলেও আমাকে সেখানেই পড়তে হবে। কারণ প্রেসিডেন্সির কোনও বিকল্প নেই। 

মায়ের কথা অমান্য করার কথা কোনওদিন ভাবিনি। অগত্যা প্রেসিডেন্সিতেই ভর্তি হলাম। 

(কাল)বৈশাখী হাওয়া, দ্বিতীয় পর্বঃ এই বৈশাখীই কান্না লুকিয়ে রাখে হাসি চাপা দিয়ে

প্রেসিডেন্সিতে পলিটিক্যাল সায়েন্সে অনার্স নিয়ে ভর্তি হই। এর পিছনেও একটা কারণ ছিল। আমার দুই দিদি ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেছে। তাই আমি চাইনি ইংরেজি নিয়ে পড়তে। কারণ আমার মনে হয়েছে,  এতে আমার ওপর ওদের নিয়ন্ত্রন তৈরি হতে পাারে। তাই আমি চেয়েছিলাম সম্পূর্ণ অন্য কিছু নিয়ে পড়তে যাতে কোনওভাবেই ওরা আমার ওপর কিছু চাপিয়ে দিতে না পারে। আমার স্কুলের শিক্ষকরাও বলতেন, যে বিষয় ভালোবাস, সেটাকে  কেরিয়ার বানাতে যেও না। এতে প্যাশনটা মরে যাবে। 

(কাল)বৈশাখী হাওয়া, তৃতীয় পর্বঃ চোখে চোখ রেখে কথা বলেছি মুখ্যমন্ত্রীরও

ইংরেজি সাহিত্যের অনুরাগী ছিলাম আমিও।  ঠিক করেছিলাম, আমি এমন সাবজেক্ট নিয়ে পড়ব, যাতে আমি ফার্স্ট ক্লাস পেতে পারি। কারণ এর আগে জীবনে আমি কোনওদিন সেকেন্ড ক্লাস পাইনি। সে যাইহোক, আমি প্রেসিডেন্সিতে ভর্তি হলাম। আমার ডিপার্টমেন্টে ১৭ জন ছিল। এদের মধ্যে ৩ জন ছেলে। 

(কাল)বৈশাখী হাওয়া, চতুর্থ পর্বঃ ‘এ মেয়েকে নিয়ে ঘর করবে কে?’

(ক্রমশ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here