দ্য পিপল ডেস্কঃ ফের হেনস্থার শিকার হলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। মিল্লি আল আমিন কলেজের টিচার ইনচার্জ বৈশাখীকে তাঁরই এক সহকর্মী হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ। সাবিনা নিশাত ওমার নামের ওই শিক্ষিকা বৈশাখীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কুকথা বলেন বলে দাবি বৈশাখীর।

পুজোর ছুটির আগে জরুরি কিছু কাগজপত্রে সই করতে কলেজে যান বৈশাখী। তখনই তাঁকে চরম হেনস্থার শিকার হতে হয়। পুরো ঘটনাটি বৈশাখী ফোনে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে জানান। সমস্যা মেটাতে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন পার্থ।

কলেজে নিজের ঘরে বসে কাজ করছিলেন বৈশাখী। অভিযোগ, ওই সময় কাউকে কিছু না বলে হঠাতই তাঁর ঘরে ঢুকে পড়েন ইংরেজির শিক্ষিকা সাবিনা। বৈশাখী তাঁকে জানান, অনুমতি নিয়ে তাঁর ঘরে ঢোকা উচিত ছিল। এর পরেই সাবিনা বৈশাখীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ।

কলেজের নিরাপত্তা রক্ষী এবং অন্য কর্মীরা সাবিনাকে আটকানোর চেষ্টা করেন। যদিও “মারমুখী” সাবিনাকে নিরস্ত করা যায়নি। বৈশাখীর অভিযোগ, থানার ওসিকে ফোন করেও সমস্যা মেটেনি। কলেজের পরিচালন সমিতিও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ।

নারদ নারদ

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বৈশাখী-সাবিনার গন্ডগোলের কারণ টিচার ইনচার্জের পদ।  বৈশাখীর আগে ওই কলেজের দায়িত্বে ছিলেন সাবিনা। তাঁকে সরিয়ে বৈশাখীকে দায়িত্ব দেওয়ায়ই গন্ডগোলের সূত্রপাত। বৈশাখীর দাবি, সাবিনা নানা অনিয়ম করেন। নিজের মতো কলেজে আসেন, চলে যান। প্রতিবাদ করলেই “হেনস্থা” করেন।

সাবিনার কাছে হেনস্থা হয়ে ফের ইস্তফা দিতে চলেছেন বৈশাখী। তিনি বলেন, এই পরিবেশে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষামন্ত্রীকে ফের পদত্যাগপত্র পাঠাব।

সাবিনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে কলেজের অশিক্ষ কর্মচারীদেরও কয়েকজন। তাঁদেরই একজন বলেন, সাবিনা বৈশাখীর গায়ে হাত তুলতে যাচ্ছিলেন। বিশ্রী ভাষায় গালাগালও দেন।

তাঁর বিরুদ্ধে তোলা সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছেন সাবিনা। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, বৈশাখীই আমাকে গালিগালাজ করেছেন। উনি প্রায়ই বাজে কথা বলেন। উনি দুর্নীতিগ্রস্ত।

এর আগেও একবার সাবিনার সঙ্গে অশান্তিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন বৈশাখী। তার জেরে শিক্ষামন্ত্রীকে ইস্তফাপত্রও পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। যদিও সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি শিক্ষামন্ত্রী।সাবিনা-বৈশাখীর সেই দ্বন্দ্বের কারণে গঠিত হয় তদন্ত কমিটি। সেই কমিটি রিপোর্ট দিয়েছেন দিন কয়েক আগে।তার পর এদিন ফের কলেজে যান বৈশাখী। এবারও হেনস্থা করা হয় তাঁকে।

বৈশাখী কি টিকতে পারবেন এই কলেজে? প্রশ্ন তাঁর ঘনিষ্ঠদেরই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here