দ্য পিপল ডেস্কঃ অযোধ্যার জমি রামলালার। অন্যত্র জমি দেওয়া হবে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে। শনিবার সুপ্রিম কোর্টের তরফে জানানো হয়েছে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে ট্রাস্ট গঠন করে শুরু করতে হবে মন্দির তৈরীর কাজ।

সেইসঙ্গে অযোধ্যায় অন্যত্র পাঁচ একর জমি বরাদ্দ করা হল সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে।

এদিন মন্দির ম্যানেজমেন্টের জন্য নিরমোহি আখারার আবেদন খারিজ করে আদালত। ভিতর এবং বাইরের জমি ট্রাস্টের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আদালত।

বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে জমির মালিকানা কার তা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে হিন্দুরা বিশ্বাস করেন এখানেই রামের জন্মভুমি ছিল জানিয়েছে আদালত। ব্রিটিশ শাসনের আগে অবধি রাম চবুতরা এবং সীতা রাসোইতে হিন্দুরা প্রার্থনা করতেন। যেহেতু রাম চবুতরাতে হিন্দুরা প্রার্থনা করতেন তাই মন্দিরের গর্ভগৃহের অধিকার রয়েছে হিন্দুদের।

এদিন শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ সাফ জানিয়ে দেন যেহেতু রাম মন্দির একটি দেশের একটি গুরুত্বপুর্ণ বিষয়, তাই দু’পক্ষের কথা মাথায় রেখেই রায় ঘোষণা করবে আদালত।

আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, আর্কিওলোজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী খালি জমিতে বাবরি মসজিদ তৈরি হয়নি। মসজিদের নিচের অংশের গঠন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছে আদালত।

রিপোর্ট অনুযায়ী, মসজিদের বাইরেই হিন্দুরা প্রার্থনা করতেন । যদিও রিপোর্টে বলা হয়েছে মসজিদ ভাঙার আগে অবধি সুন্নিরা এখানেই প্রার্থনা করতেন।

অয্যোধ্যা জমি রামলালার সাফ জানিয়ে দিল আদালত।  বিতর্কিত জমিতে ট্রাস্ট বানিয়ে মন্দির নির্মাণের নির্দেশ আদালতের। আগামী তিন মাসের মধ্যে ট্রাস্ট গঠনের নির্দেশ দিল আদালত।

শনিবার মামলার রায় ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। সকাল ১০ টা ১৫ থেকে ১ নং ঘরে চলে রায়।

২০১০ সালে অয্যোধ্যা মামলার রায় ঘোষণা করে এলাহাবাদ হাই কোর্ট। আদালতের তরফে ২২.৭ একর জমিকে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহী আখারা এবং রামলালার মধ্যে সমান ভাবে ভাগ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ১৪ টি আপিল দাখিল করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকে মামলার রায়।

গত সপ্তাহ থেকেই বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অয্যোধ্যার নিরাপত্তা। মোতায়েন করা হয়েছে ১২ হাজারের বেশী পুলিশ কর্মী। কোনও বড়সড় ঘটনা এড়াতে রাখা হয়েছে দুটি হেলিকপ্টার।

শনিবার রায় ঘোষণার আগেই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

শুক্রবার অয্যধ্যার পরিস্থিতি নিয়ে উত্তরপ্রদেশ মুখ্যসচিব এবং ডিজিপির সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। রায় ঘোষণার আগে অয্যোধ্যার প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ সহ বিচারপতি এস এ বোবদে, বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচুড়, অশোক ভুষণ এবং এস এ নাজির। এদিন প্রায় দেড় ঘন্টার অধিক সময় ধরে চলে বৈঠক।

দেশুজুড়ে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সমস্ত রাজ্যগুলিকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। জম্মু-কাশ্মীর সহ একাধিক রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা।

সূত্রের খবর, আগামী ১৭ তারিখ প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এর মেয়াদ শেষ। সেইসঙ্গে সোমবার এবং মঙ্গলবার আদালত বন্ধ। তাই শনিবার ৪০ দিন ধরে চলা এই মামলার রায় ঘোষণা করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

শনিবার থেকেই রাজ্যের সমস্ত স্কুল, কলেজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে উত্তর প্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার। আগামী সোমবার অবধি বন্ধ পঠনপাঠন ব্যাবস্থা।

আদালতের তরফে শনিবার রায়ে সময়সুচী ঘোষণার পর থেকেই বাড়তি নিরাপত্তা রাখা হয়েছে গোটা এলাকাজুড়ে।

রায় ঘোষণার পড়ে বড়সড় ঘটনা যাতে না হয় তার জন্য মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু মানুষের সঙ্গে বৈঠক করেন আরএসএস এবং বিজেপি নেতারা।

শুধুমাত্র অয্যোধ্যা নয়, দিল্লিতেও শান্তি বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। কোনও বড়সড় দুর্ঘটনা এড়াতে সর্বদা তৎপর সরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here