কাউন্টডাউন শুরু অযোধ্যায় , কড়া নিরাপত্তায় সম্প্রীতি রক্ষাই চ্যালেঞ্জ মোদির

দ্য পিপল ডেস্ক: কাউন্টডাউন শুরু অযোধ্যায় । দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের অবসান ঘটবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে। দীর্ঘ শুনানির পর এনিয়ে রায় ঘোষণা করবে শীর্ষ আদালত।

আদালত ১৭ নভেম্বরের মধ্যে এই মামলার রায় জানাবে। নিষ্পত্তি হবে রামমন্দির-বাবরি মসজিদ বিতর্কের। এখন এই রায়ের দিকে তাকিয়ে গোটা দেশ।

অন্যদিকে, শীর্ষ আদালতের রায়কে সম্মান জানানোর আবেদন জানিয়েছেন সব পক্ষই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিএসপি সুপ্রিমো মায়াবতী,  আধ্যাত্মবাদী নেতা রবিশঙ্কর, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, এনসিপি নেতা শারদ পাওয়ার, অল ইন্ডিয়া মুসলিম মজলিস-ই-মাশাওয়ারাতের সভাপতি নাভিদ হামিদ এই রায়কে সম্মান জানিয়ে সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।

তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের অযোধ্যা রায় নিয়ে অযথা মন্তব্য করতে না করেছেন প্রধানমন্ত্রী। যোগীও তাঁর মন্ত্রীদের রামমন্দির-বাবরি মসজিদ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন।

আরও পড়ুনঃ কেন মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে ‘নিধিরাম সর্দার’দের?

দলীয় মুখপাত্র, দলের মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগকেও সতর্ক করেছে বিজেপি। রামমন্দির ইস্যুতে অযথা মন্তব্য থেকে সব স্তরের নেতাদের উদ্দেশ্যে আবেদন জানিয়েছে গেরুয়া শিবির।

কাউন্টডাউন শুরু অযোধ্যায়

বৃহস্পতিবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে অযোধ্যা রায় নিয়ে আলোচনার কথা জানিয়েছেন সোনিয়া গান্ধি।

অন্যদিকে, আরএসএস-ও আপাতত তাদের সব অনুষ্ঠান বাতিল করেছে।

সূত্রের খবর, সমস্ত রাজ্যকে সতর্ক থাকার জন্য এডভাইজারি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

অযোধ্যায় পাঠানো হচ্ছে অতিরিক্ত আধাসেনা। অযোধ্যার বিতর্কিত জমিকে ঘিরে বিগত দিনে সংঘর্ষ, রক্তপাত ও জীবনহানি দেখেছে দেশ।

এবার রায় ঘোষণার পর কী হবে তা নিয়েও উৎকন্ঠায় রয়েছেন অনেকেই।ফলে সম্প্রীতি রক্ষাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ মোদি সরকারের।

আরও পড়ুনঃ কোন ফর্মুলায় হবে সরকার গঠন, নজরে মহারাষ্ট্রের ক্লাইম্যাক্স

কড়া নিরাপত্তা উত্তরপ্রদেশে

অযোধ্যা ছাড়াও উত্তরপ্রদেশের স্পর্শকাতর জেলাগুলিতে চাপা উত্তেজনা রয়েছে।

মীরাট, আগ্রা, আলিগড়, রামপুর, বেরিলি, ফিরোজাবাদ, কানপুর, লখনউ, সাহারানপুর, শামলি, মুজফফরনগর, বুলন্দশহর এবং আজমগড়ের উপর বিশেষ নজর রেখেছে প্রশাসন।

অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মোকাবিলায় অযোধ্যা সহ গোটা রাজ্যে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার।

২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে অযোধ্যায়।

সোশাল মিডিয়ায় ধর্ম, সম্প্রদায় বা সুপরিচিত ব্যক্তিদের সম্পর্কে অবমাননাকর পোস্ট করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন অযোধ্যার জেলাশাসক।

রামমন্দির-বাবরি মসজিদ বিতর্ক নিয়ে যে কোনও রকম জমায়েত, অনুষ্ঠান, এনিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিতর্ক নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিজেদের গাড়ি, পাবলিক এড্রেস সিস্টেম, অস্ত্রশস্ত্র এখনই পরীক্ষা করে নিচ্ছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। সম্পুর্ণ যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছে।

গুজব  ঠেকাতে এবং দ্রুত খবর পাওয়ার জন্য ফৈজাবাদ পুলিশ ১৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করেছে।

মধ্যপ্রদেশের ভোপালেও আগামী দু’মাস ১৪৪ ধারা জারি করেছে রাজ্য প্রশাসন।

অযোধ্যার নেপথ্য কাহিনীঃ

১৯৯২ সালে সংঘ অনুগামী করসেবকদের বাবরি মসজিদ আক্রমণের পর দেশ জুড়ে অশান্তি শুরু হয়।

মৃত্যু হয় বহু মানুষের। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আক্রান্ত হন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। ভয়াবহ সেই অশান্তির কথা কেউ ভুলে যায়নি।

বিজেপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আগাগোড়াই অযোধ্যার ওই বিতর্কিত জমিতে রামমন্দির নির্মাণের দাবি ছিল।

’৯২ পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনে বিজেপি নেতারা গলা চড়িয়ে বলেছেন, ‘ওহি রামমন্দির বানায়েঙ্গে’।

১৯৯২ সালের সেই অশান্তির পাশাপাশি ২০১৪ থেকে দেশের নানা প্রান্তে গো-রক্ষার নামে সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণের ঘটনায় বিদেশেও সমালোচনার মুখে পড়েছে গেরুয়া শিবির।

দেশ জুড়ে আর্থিক বিপর্যয়ের মধ্যে অযোধ্যা রায়ের পর দেশ অশান্ত হয়ে উঠলে ফের মুখ পুড়বে বিজেপির এবং নরেন্দ্র মোদির।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে সম্প্রীতি রক্ষাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ মোদি সরকারের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here