টিঙ্কু ভট্টাচার্য

দেশের মুখ উজ্জ্বল করে একদিনের জন্য দেশে ফিরেছিলেন অর্থনীতিতে নোবেল পাওয়া অভিজিত বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে দেশে ফিরে প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসে তিনি যে যারপরনাই আপ্লুত, তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন অভিজিত। যদিও তাঁকে নিয়ে কুকথার স্রোত বইয়ে দিচ্ছেন বঙ্গ বিজেপির কয়েকজন কর্তাব্যক্তি।

কলকাতায় বেড়ে ওঠা অভিজিত বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা। নোবেল পেয়ে নিঃসন্দেহে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন বালিগঞ্জের জল হাওয়ায় বেড়ে ওঠা এই ‘তরুণ’তাঁকেই কিনা পদে পদে অপমান করছেন কয়েকজন অর্বাচীন রাজনীতিবিদ! কেউ বলেছেন, বিদেশিনীকে বিয়ে করায় নোবেল প্রাপ্তি হয়েছে তাঁর।

যিনি বলছেন, তিনিও তো কোনও বিদেশিনীকে বিয়ে করে নোবেল পেতে পারতেন! একথা বলেছিলেন অভিজিতের মা-ও। তবে কেন ওই রাজনীতিবিদ বিদেশিনীকে বিয়ে না করে নোবেল ছিনিয়ে নিলেন না, সে প্রশ্ন রয়েই গেল।

এটা ঠিক যে, নোবেল পুরস্কার নিয়ে অতীতেও নানা সমালোচনা হয়েছে। এখনও হচ্ছে।তবে তার মানে এই নয় যে, অভিজিত নোবেল পাওয়ার যোগ্য নন। অভিজিতের থেকেও ভালো অর্থনীতিবিদ থাকতেই পারেন। আজ না হোক কাল, তিনিও নোবেল পাবেন।তবে যিনি সমালোচনা করছেন, তিনি কোন মুখে করছেন?

খুব জানতে ইচ্ছে করে, তাঁর বিদ্যে কতদূর। তিনি যদি বিদ্যে বোঝাই বাবুমশাই হন, তবে তো তিনিই দু চার বছরের মধ্যেই নোবেল পাবেন! আর যদি তা না হন, তবে চিরকাল অন্যের নোবেল প্রাপ্তি দেখে ঈর্ষায় জ্বলে পুড়ে মরতে হবে।

বঙ্গ বিজেপির কয়েকজন নেতা যে ভাষায় অভিজিতকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করে চলেছেন কটূক্তির বাণ, তা শুধু নিন্দনীয় নয়, ঘৃণারও

একজন শিক্ষিত মানুষ সম্পর্কে কী ভাষায় কথা বলতে হয়, তা কবে শিখবেন এই সব অর্বাচীন রাজনীতিবিদেরা?

মনে রাখতে হবে, কিছু মুর্খ লোকের নেতা হওয়াটা খুবই সোজা। তাঁদের ভুল বুঝিয়ে মন্ত্রী-সান্ত্রী হওয়াটা আরও সোজা। আর রীতিমতো পড়াশোনা শিখে একটা জায়গায় পৌঁছানো শুধু কঠিন নয়, কঠিনতম।

এই কঠিনতম কাজটাই করেছেন অভিজিত। আর তাঁকেই কিনা নিরন্তর অপমানসূচক কথা বলে চলেছেন অর্বাচীনের দল!

নেতা হয়ে আজ বাদে কাল তাঁরা যদি ক্ষমতায় আসেন, তাহলে কী শিক্ষা দেবেন তাঁরা?

একজন রাজনীতিবিদকে দেখে অনেক কিছুই শেখেন সাধারণ মানুষ। যাঁদের নিজেদেরই না আছে শিক্ষা, না আছে দীক্ষা, তাঁরা কীভাবে দেশ কিংবা রাজ্য চালাবেন?

আজ যাঁরা অভিজিতকে কটু কথা বলছেন, কাল যখন অন্য কেউ তাঁদের বলবেন শুনতে ভালো লাগবে তো!

আর তাছাড়া, কুকথায় পঞ্চমুখ হওয়ায় যদি তৃণমূলকে প্রত্যাখান করতে চান মানুষ, তাহলে বিজেপিকে ধরবেন কী কারণে।

দুটো দলই তো একই মুদ্রার এ পিঠ আর ও পিঠ!

অতএব, সাধু সাবধান। শিক্ষিত মানুষ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে হলে অন্তত দু বার ভাববেন তথাকথিত দেশসেবকের দল!   

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here