দ্য পিপল ডেস্কঃ কাশের হাওয়া আর শিউলির গন্ধে মাতোয়ারা গ্রাম জানান দিচ্ছে দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছেন উমা। বাঙালি এবার মাতবে প্রাণের উত্সবে।

শহুরে আমেজ ছাড়িয়ে মন মাঝে মধ্যে পাড়ি দেয় খোলা প্রান্তরে। যেখানে ঠাকুর দালানে খড়ের কাঠামোর গায়ে মাটির পরশে মৃন্ময়ী রূপে ধরা দেবেন দেবী দুর্গা।

আমাদের আজকের ডেস্টিনেশন হবিবপুরের বাহাদুরপুরের জমিদারবাড়ি। সেখানে জমিদার বাড়ির দালানেই রঙ পড়ছে দেবীর গড়নে। সঙ্গে চার ছেলেমেয়েকে নিয়ে সাজেগোজে তৈরি হচ্ছেন পূর্ণাঙ্গ একচালার দেবী।

জমিদার নেই, জমিদারিও নেই। আছে দালানকোঠা, আছে ঐতিহ্য। সেই পুরনো রীতি ও পরম্পরা মেনে পুজো চলছে প্রায় দেড়শ বছর ধরে।

জানা যায়, পুজো শুরু হয়েছিল জমিদারের করা মানত পূরণ করতে। সে সময়ের জমিদারের স্ত্রীর কঠিন অসুখ হয়েছিল। কোনো ডাক্তার, বদ্যিতে কাজ হচ্ছিল না। তখন দেবী দুর্গার কাছে মানত করেন জমিদার।

স্ত্রীর অসুখ সেরে গেলে মায়ের পুজো শুরু করেন জমিদার। সেই থেকে শুরু। তবে তখনকার রমরমা এখন আর না থাকলেও যথাসম্ভব পারিবারিক নিয়ম মেনেই পুজো হয় এখনও।         

জমিদারের বর্তমান প্রজন্ম সৌমেন রায় জানান, বাবা-দাদুদের মুখে গল্প শোনা, সেসময় সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত প্রত্যেকদিন কয়েকশো গ্রামবাসীর পাত পড়ত জমিদার বাড়িতে।

এই কয়েক দিনে জমিদার-প্রজার দূরত্ব ঘুচে যেত। পুজো উপলক্ষে বসত মেলা, জলসা। হতো চণ্ডীমঙ্গল গান। প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় শূন্যে গুলি ছোঁড়া হতো।

তবে এখন আর তেমন জাঁকজমক না হলেও চণ্ডীমঙ্গল গানের রীতি বজায় আছে। এখনও পুজোর চারদিন ধরে চণ্ডীমঙ্গল গান হয়।

সৌমেন রায় জানিয়েছেন, বৈষ্ণব মতে দেবীর পুজো হয়। তাই অন্ন ভোগ দেওয়ার রীতি বা অধিকার নেই। ফল, মিস্টি, লুচি, তরকারি দিয়ে মায়ের ভোগ হয়।

তবে বিশেষ রীতি মেনে আজও বিজয়ার দিন মাকে বরণের পর প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় শূন্যে গুলি ছোঁড়া হয়।  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here