ধৃত জঙ্গি

দ্য পিপল ডেস্কঃ টানা আড়াই বছর পালিয়ে বেড়ানোর পর অবশেষে পুলিশের জালে জেএমবি-র এক মাথা। গ্রেফতার করা হয় মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর থেকে।
ধৃতের নাম আব্দুল করিম। তার বাড়ি সামসেরগঞ্জ থানার চাঁদনিদহ এলাকা।

গোপন সূত্রে খবর পেয়েই হানা দেয় পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত বারোটা নাগাদ সুতি থানার কাসিমনগর গ্রামে মাসির বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা গিয়েছে, টানা আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে বাড়ি থেকে পলাতক ছিল আব্দুল করিম। পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল না ।

ইতিমধ্যে তার কাছ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বুদ্ধ গয়া বিস্ফোরণ সহ একাধিক সমাজবিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে ধৃত বড় করিমের বিরুদ্ধে।

কিছুদিন আগে সে গা ঢাকা দিয়েছিল কর্ণাটকে। সম্প্রতি সেখান থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে মুর্শিদাবাদে নিজের বাড়িতে ফিরে আসে করিম। সেখানে ইঁট ভাটার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে শুরু করেছিল।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাসির বাড়ি আসে ওই ব্যক্তি। সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় কলকাতা স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদে সুতি থানার কাশিমনগর থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

এর আগে ২০১৮ সালেও তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর পরিমাণ বিস্ফোরক ও কিছু জেহাদি নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর। কিন্তু তাকে ধরা যায়নি।

ধুলিয়ান মডিউলের প্রধান দ্বায়িত্বে থেকে জেএমবি নেতৃত্বকে সবরকম ভাবে সাহায্য করাই ছিল ধৃত বড় করিমের প্রধান কাজ বলে ধারণা গোয়েন্দা বিভাগের। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর খোঁজ চালাচ্ছিল বাংলাদেশের প্রশাসন, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।

দীর্ঘ প্রায় ২৯ মাস ঢাকা দিয়ে থাকার পর অবশেষে গোপন সূত্রের খবরে জেএমবি-র শীর্ষ স্থানীয় পান্ডা বড় করিমকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হল পুলিশ। যদিও পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, করিম ভালো ছেলে। তাকে ফাঁসানো হয়েছে।