||গৌতম ভট্টাচার্য||

এক সময় ভাটপাড়ায় তিনিই ছিলেন শেষ কথা। আর এখন লাঠির ঘায়ে মাথা ফাটল তাঁরই!ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং আপাতত হাসপাতালে চিকিতসাধীন।

ভাটপাড়ার চারবারের বিধায়ক অর্জুন সিং। বাম জমানার মধ্য গগনেও ভাটপাড়া এলাকায় বাঘে-গরুতে একঘাটে জল খেত অর্জুনের কথায়। তৃণমূল জমানায় তাঁর প্রতাপ আরও বাড়ে। এই প্রতাপের জন্যই তৃণমূল নেতৃত্বের কাছের লোক হয়ে ওঠেন তিনি। চলতি বছর লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে আগে ব্যারাকপুরে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন অর্জুন। দল তাঁকে টিকিট না দিয়ে দাঁড় করিয়ে দেয় দীনেশ ত্রিবেদীকে। ২০১৪র বিধানসভা নির্বাচনে দীনেশ জয়ী হয়েছিলেন। তাই অর্জুনকে টিকিট দিয়ে ব্যারাকপুরে কোনও ঝুঁকি নিতে চায়নি দল। রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে দিল্লি গিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন ক্ষুব্ধ অর্জুন।

কাঁটা দিয়েই ব্যারাকপুরে কাঁটা তুলতে চায় গেরুয়া শিবির। সেই কারণেই এই লোকসভা কেন্দ্রে পদ্মশিবিরের প্রার্থী হন অর্জুন। উল্টো দিকে একদা তাঁরই সতীর্থ দীনেশ। টানটান উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে হয় নির্বাচন। সেদিনও অশান্তি হয়। তার পরেও শেষ হাসি হাসেন অর্জুন।

লোকসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ের পর ব্যারাকপুরের রাশ কার্যত চলে যায় অর্জুনের হাতে। ভয়ে ঘরে সেঁধিয়ে যায় ঘাসফুল শিবির।দাপিয়ে বেড়াতে থাকে অর্জুন বাহিনী। এর জেরেই অর্জুনের সংসদীয় ক্ষেত্রের একাধিক পুরসভার রাশ চলে আসে বিজেপির হাতে।

এরই কিছুদিন পরে মোহভঙ্গ হয় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া কাউন্সিলরদের। গেরুয়া শিবিরে যোগদানের কিছুদিনের মধ্যেই তাঁরা ফেরেন তৃণমূলে। এতেই আশার আলো দেখতে শুরু করে ঘাসফুল শিবির। শুরু হয়ে যায় পদ্মশিবিরকে মাত দেওয়ার প্রস্তুতি।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, প্রথমেই এলাকার দখল হয়ে যাওয়া পার্টি অফিসগুলিতে তৃণমূলের ঝান্ডা ওড়ানোর ছক কষে ঘাসফুল শিবির। বাম রাজত্বের অবসানের পর এই পার্টি অফিসগুলি দখল করে নিয়েছিল তৃণমূল। পরে সেগুলির দখল নেয় বিজেপি। এই পার্টি অফিসগুলি ফেরাতে গিয়েই বিপত্তি।

স্থানীয় সূত্রের খবর, শ্যামনগরের তিনটি পার্টি অফিস দখল করতে গেলে বাধা দেন অর্জুন। তার পরেই শুরু হয় অশান্তি। অভিযোগ, খবর পেয়ে এলাকায় গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোঁড়ে জনতা।শূন্যে গুলি চালায় পুলিশ। পুলিশের লাঠির ঘায়ে অর্জুন জখম হন বলে অভিযোগ।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপিতে যাওয়া কাউন্সিলররা ঘরওয়াপসি করায় অক্সিজেন পায় মুমুর্ষু তৃণমূল। শক্তিসঞ্চয় করে তারাই পাল্টা মারের রাস্তায় গিয়েছে। যা ঠেকানোর মতো মেশিনারি এই মুহূর্তে নেই অর্জুনের। সেই কারণেই মার খেয়েছেন দোর্দণ্ডপ্রতাপ এই নেতা। আর তাঁকে পিটিয়ে আর কিছু না হোক বিজেপির বুকে কিছুটা হলেও ভয় ধরিয়ে দিয়েছে রাজ্যের শাসকদল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here