“রিস্তে মে তো হাম তুমহারে বাপ লাগতে হ্যায়, নাম হ্যায় শাহেনশা”, “হাম জাহান পে খাড়ে হোতে হ্যায়, লাইন ওয়াহি সে শুরু হোতা হ্যায়”। ফ্যাসফ্যাসে গলাতেও পাড়ার চ্যাংড়া ছেলেটা একবার অমিতাভ হতে চায়। কিন্তু অ্যাংরি ইয়ং ম্যান হওয়া অতটাই সোজা?

যদি না পারি তবে অমিতাভকে দেখে একটু নায়ক হওয়ার চেষ্টা করতে পারি। এরকম অনেক অভিনেতাই রয়েছেন যাদের বড় হওয়া এই মানুষটাকে দেখে। ছোট বেলায় একবার সিনেমা হলে ‘অনুসন্ধান’ দেখা ছেলেটাও যে তাঁর মধ্যে অভিনয় সত্ত্বাকে অনুসন্ধান করতে পেরছে ।

পরিচালক মৃণাল সেনের হাত ধরে ‘ভুবন সোম’ থেকে শুরু করেছিলেন তারপর থেকে প্রায় ছয় দশক ধরে রাজ করছেন বলিউডে। তারপর ‘মরদ’, ‘সারাবি’, ‘কুলি’, ‘শাহেনশা’, ‘ডন’ একের পর ধামাকাদার হিট ছবি উপহার দিয়েছেন বলিউডকে। আসলে বলিউডে অমিতাভ বচ্চন চ্যাপ্টার এত বড় যে একদিনে বলা শেষ হবে না।

কিন্তু অজানা কিছু তথ্য রয়েছে এই অ্যাংরি বলিউড অভিনেতার। কেরিয়ারের খারাপ সময়ে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়লেন কলকাতার উদ্দেশ্যে । অল ইন্ডিয়া রেডিও চাকরীর জন্য আবেদনও করেছিলেন । কিন্তু বাদ পড়লেন। শুনে চমকে যাওয়ার মতই ঘটনা। সেইসময়ের বিখ্যাত রেডিও জকি আমিন সাইনি আর ইন্টারভিউ নেননি ইয়ং অমিতাভের।

পরে এই অমিতাভের গলায় শোনা গিয়েছিল ‘শিলশিলা’ ছবির বিখ্যাত গান “রঙ বরসে”। এক ঝটকায় হিট সেই গান। আজও বসন্তের আবীরের নেশায় মেলে সেই গানের গন্ধ। ওই ছবিরই “নীলা আশমান শো গেয়া” গানে একদিকে যেমন রেখা অমিতাভের অনস্ক্রিন ফাটাফাটি জুটি, অন্যদিকে অমিতাভের সুর মন কেড়ে নিয়েছিল দর্শকদের।

এরপর ৮১ এর বিখ্যাত ছবি ‘লাওয়ারিশে’ ফের শোনা গেল ‘বিগ বি’ র গলায় “মেরে আঙ্গনে মেয় তুমহারা কেয়া কাম হ্যায়”। কল্যাণজি – আনন্দজির সুরে সেই গান আজও চায়ের আড্ডা জমিয়ে তোলে।

সময় পাল্টানোর সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে গিয়েছে অনস্ক্রিনের জুটি।‘বাগবান’ ছবিতে “হরি খেলে রাঘুবীরা” গান আজও সুপারহিট। বিদ্যা বালন অভিনীত বিখ্যাত ছবি ‘কাহানি’ তে অমিতাভ বচ্চনের গলায় শোনা গেল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত গান “একলা চল রে”। রিজেক্ট হয়েও তিনি যে হিট তা প্রমাণ করলেন আবারও।

২০১৫ সালের মুক্তি পায় আর বালকি পরিচালিত ‘শামিতাভ’। ছবিতে একই ছবিতে দেখা গিয়েছিল অমিতাভ বচ্চন এবং ধানুশকে। সেই ছবির সাবজেক্টেই মন কেড়ে নেয় দর্শকদের। সেদিনের রিজেকশানের জবাব আবারও দিয়েছেন তিনি।

নিজেকে সব সময় নতুন চরিত্রে যেমন এক্সপেরিমেন্ট করেছেন তেমনই জীবনের নতুন চ্যালেঞ্জিং বিষয়ে পার করেছেন ‘গোল্ডেন এরা অব সিনেমা’। জীবনের সবথেকে বড় ছবির চমক দিয়েছেন ‘অগ্নিপথ’, ‘পিকু’ এবং ‘ব্ল্যাক’ এবং ‘পা’ ছবিতে। অনবদ্য পারফরম্যান্সের জন্য পেয়েছেন জাতীয় পুরষ্কার। তাঁর কাছে বয়সটা শুধুমাত্র একটা সংখ্যা মাত্র। তাঁর জন্য রইল ৭৭ টি বসন্তের শুভেচ্ছা। আরও বসন্ত পার করুন আপনি। এই কামনা করে দ্য পিপল টিভি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here