মৃত শ্রমিকের মা

দ্য পিপল ডেস্ক : সামনেই খুশির ইদ। সেই সময় বাড়ি এসে মা এবং ভাই বোনদের সঙ্গে আনন্দে মেতে উঠবে সে, এমনই স্বপ্ন দেখছিল ওমর ফারুক।


সেই আশায় জল ঢেলে দিল করোনা, লকডাউন।


মালদা কালিয়াচক থানার অন্তর্গত যোধপুর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ওমর ফারুক শেখ। মাত্র ২৮ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে সংসারের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিল সে।


বাড়িতে মা, ভাই-বোনকে একটু স্বাচ্ছন্দে রাখতে মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ের ওয়াল গাওয়ে শ্রমিকের কাজে যোগ দেয় সে। পাশাপাশি অবসর সময়ে ফল বিক্রিও করত।


দিনরাত পরিশ্রম করে ইদের জন্য টাকা জমিয়েছিল সে। বাড়িতে ফোন করে আশ্বাস দিত যে ইদে এসে অনেক আনন্দ করবে।


সব আসা বৃথা প্রমাণ করে দিল লকডাউন। যার জেরে কাজ হারিয়ে ঘরে মুম্বইতেই আটকে পড়তে হয় তাকে।


অসুস্থ হয়ে পড়লেও টাকার অভাবে নিজের চিকিৎসা করাতে পারেনি সে। বেশ কিছুদিন পর ৪ মে চিকিৎসার অভাবেই মৃত্যু হয় ওমরের।


খবর বাড়িতে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে ওমরের পরিবারের লোক। তবে, তাদের আশা ছিল মৃতদেহ বাড়িতে ফিরবে, শেষ দেখা দেখতে পারবে বাড়ির লোক।


মুম্বইয়ের স্থানীয় মানুষজন পুলিশ ও প্রশাসনকে খবর দিলে, ওমরের মৃতদেহ উদ্ধার করে উলুয়া ফাঁড়ির পুলিশ চলতি মাসের ৯ তারিখ স্থানীয় নবী মুম্বাইয়ের এমএমএমসি হাসপাতালে পাঠায়।


সেখানে চিকিৎসকরা জানান মৃতদেহের করোনা পরীক্ষা করা হবে সেই রিপোর্ট নেগেটিভ এলে, মৃতদেহ বাড়ির লোককে দেওয়া হবে।


এর ৫ দিন পর রিপোর্ট নেগেটিভ এলে ওমরের দেহ বাড়ি নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।


এরপর মালদার স্থানীয় বাসিন্দারা চাঁদা তুলে ওমরের মৃতদেহ আনতে মুম্বইতে যায়। মৃতদেহ ফেরত চাইলে কর্তৃপক্ষ জানায় দেহ হাসপাতালে নেই। দেহ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।


এই খবর জানতে পেরে ওমরের অসুস্থ বৃদ্ধা মায়ের করুণ আর্তি, জীবিত না হোক আমার মৃত ছেলেকেই আমার কোলে ফিরিয়ে দিক সরকার। ও যে আমাদের জীবনের একমাত্র সম্বল।


অন্যদিকে, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দক্ষিণ মালদার সাংসদ এএইচ খান চৌধুরি এবং স্থানীয় সুজাপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ঈশা খান চৌধুরি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন।


তাঁরা চান যে কোনও মূল্যেই ফিরিয়ে দেওয়া হোক এই অসহায় হতদরিদ্র দিনমজুরের মৃতদেহ।