দ্য পিপল ডেস্কঃ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় রীতি মেনে আগরতলার পার্শ্ববর্তী পূরাতন আগরতলায় শুরু হল খার্চিপূজা উৎসব ও মেলা। বুধবার পুরাতন আগরতলার চতুর্দশ দেবতা মন্দির প্রাঙ্গনে এই মেলার উৎসব ও মেলার উদ্বোধন করেন ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।

এই উপলক্ষ্যে চতুর্দশ দেবতা মন্দিরের পাশের কৃষ্ঞমালা মুক্ত মঞ্চে উৎসবের আয়োজন করা হয়। প্রদীপ ও বিশাল আকারের ধূপকাঠি প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা সরকারের রাজস্ব ও মৎস দফতরের মন্ত্রী এন সি দেববর্মা, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র ডা: প্রফুল্লজিৎ সিনহা, খার্চি উৎসব কমিটির দুই সদস্য রতন চক্রবর্তী এবং সুশান্ত চৌধুরী সহ আরও অনেকে।

প্রতি বছরের মত এবছরেও মেলা স্মরণিকার আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করেন উপস্থিত অতিথিরা। পাশাপাশি এবছর মেলার একটি ওয়েব সাইটের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। গত বছর থেকে মেলার থিম শুরু হয়েছে। গত বছরের থিম ছিলো প্লাষ্টিক বর্জিত মেলা প্রাঙ্গন। এবছর এটি থাকছে এর পাশাপাশি মাদক মুক্ত ত্রিপুরা এবং জল সংরক্ষনের থিম যুক্ত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন এই মেলাকে সাধারণ একটি মেলা ভাবলে ভুল হবে। দেশের কাছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দেয় এই উৎসব বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন গত বছর মেলাকে ঘিরে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এতে একটা জিনিস স্পষ্ট হচ্ছে  সমাজ ভালোর দিকে যাচ্ছে। সমাজ যে ভালোর দিকে পরিবর্তন হচ্ছে তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে ২০১৮সালের ৯মার্চের পর থেকে। সমাজ পরিবর্তনে মেলার একটা বড় ভূমিকা রয়েছে বলে দাবীও করেন তিনি।

রাজ্যে শিল্প হাব, এডুকেশনেল হাব, স্বাস্থ্য হাব এবং সাংস্কৃতিক হাব গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে সমাজকে সামনের দিকে এবং সুস্থতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। 

অপর দিকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত মন্ত্রী এন সি দেববর্মা বলেন দীর্ঘ বছরের প্রাচীন এই মেলা ত্রিপুরা রাজ্যের অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং ঐতিহ্যকে আরো মজবুত করবে। রাজ্যের জাতি ও জনজাতিদের মিলন ক্ষেত্র এই মেলা।

১৬জুলাই পর্যন্ত চলবে এই উৎসব ও মেলা। গত বছরের চেয়ে এবছর মেলায় দোকানের সংখ্যা অনেক বেড়েছে বলে দাবী মেলা কমিটির। গত বছর এই মেলার সাত দিনে ২৩লাখ মানুষের ভিড় জমে ছিল। এবছর এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এবছর ট্রেনের সংখ্যা বেড়েছে। তাই মেলার নিরাপত্তার জন্য ৬০০ পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

২০০ বছরের পূরাতন এই মেলা। ত্রিপুরায় রাজা আমলে এই পূজা ও মেলার সূচনা হয়। এখানে মোট ১৪ জন হিন্দু দেবদেবীর পূজা হয়। আষাঢ় মাসে ১৪জন দেবতার পূজা করা হয়। বছরের অন্য সময় ২০০ বছরের প্রাচীন একটি মন্দিরের সিন্দুকের ভেতরে রাখা হয় দেবতাদের। রাজ-আমলে এই মন্দিরের পূজার সকল খরচ আসতো রাজকোষ থেকে। এখন এই মন্দিরের পূজার খরচ আসে ত্রিপুরা সরকারের কোষাগার থেকে। এই পূজার পুরোহিতকে বলা হয় চন্তাই। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here