দ্য পিপল ডেস্ক : অস্ত্র রাখার অপরাধে সেলিব্রিটি সঞ্জয় দত্তও ছাড় পায়নি। জেল খাটতে হয়েছে তাঁকে।

অথচ বিপ্লব দেবের ছেলের অস্ত্র আস্ফালনের ছবি ভাইরাল হওয়ার পরও কোনও পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ।কিন্তু  কেন?

মুখ্যমন্ত্রীর ছেলে বলেই কি নিষ্ক্রিয় প্রশাসন? প্রশ্ন উঠছে ত্রিপুরায়। আর এনিয়েই সরগরম হয়ে উঠেছে ত্রিপুরার রাজনীতি।

মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে কংগ্রেস ও বামেরা।

শুক্রবার আগরতলায় বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধির প্রতিবাদে কংগ্রেস বিক্ষোভ মিছিল করে। বিদ্যুৎ পর্ষদে ডেপুটেশন দেয়। সেখানে বিপ্লব দেবকেই নিশানা করেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব।

এদিন প্রদেশ কংগ্রেস নেতা সুবল ভৌমিক বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর ছেলে অস্ত্র বহন করছেন।পুজোর সময় প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে তাঁকে দেখা গিয়েছে।

আজকে দুর্ভাগ্য, এর প্রত্যুত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, কিছু মিডিয়াতেও দেখানোর চেষ্টা হয়েছে, একটা জুভেনাইল ছেলে, ও বুঝতে পারেনি তাই এই অস্ত্র। একটা লং রেঞ্জ অস্ত্র, সফিস্টেকেটেড অস্ত্র সে বহন করছে।

অথচ এটাকে হাল্কা করে দেখানোর জন্য বলা হচ্ছে জুভেনাইল। ও কোনও মতেই জুভেনাইল নয়। ও প্রাপ্তবয়স্ক।ওর ২০ বছর বয়স। আমি সে বিতর্কে যাচ্ছি না।

মুখ্যমন্ত্রী মিথ্যা স্টেটমেন্ট দিচ্ছেন অভিযোগ করে সুবল ভৌমিক বলেন, উনি বলেছেন এর ভিতরে গুলি ছিল না।  তাঁর প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রী কি মনিটরিং করেন নাকি? রিভলবার, বন্দুক, রাইফেল মুখ্যমন্ত্রী মনিটরিং করেন নাকি? এর ভিতরে গুলি ছিল কি ছিল না উনি জানলেন কি করে?

তিনি আরও বলেন, রাজ্যে অস্ত্রাগারগুলো উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছে। যে খুশি সরকারি অস্ত্র হাতে নিয়ে নিতে পারে।ওই অস্ত্র সরকারি না বেসরকারি আমরা জানি না।অবৈধ বা বৈধ তাও জানি না।

ওর কোনও লাইসেন্স আছে কিনা তাও জানি না। কিন্তু এই অস্ত্র ধরার জন্য ২৪ ঘণ্টা হয়ে পরও পুলিশ বা সেন্ট্রাল কোনও এজেন্সি বা এনএইএ কেউ এখনও কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।ওকে কেউ জিজ্ঞাসাবাদ করেনি।

আপনারা জানেন, এদেশে বহু সেলিব্রিটির অস্ত্র বহন করার কারণে জেল হয়েছে। সঞ্জয় দত্ত একজন সেলিব্রিটি।উনি তো উগ্রপন্থী ছিলেন না। ওদের পরিবার দেশের জন্য অনেক দিয়েছে। ওকেও ছয় বছর জেল খাটতে হয়েছে।

এখানে অস্ত্র বহন করেছে একটা লোক।আর অস্ত্রাগারগুলোও এখন ওপেন হয়ে গিয়েছে।বিহারকেও হার মানিয়ে দিয়েছে। প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে অস্ত্র আস্ফালন হচ্ছে।সেই অস্ত্র কি করে এল তার কোনও তদন্ত হচ্ছে না।তাকে জুভেনাইল বলা হচ্ছে।

আমার মনে হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী যে অজুহাতগুলো দিয়েছেন সেগুলি জুভেনাইল অজুহাত, উনি নিজে জুভেনাইল। যে অস্ত্র নিয়েছে সে জুভেনাইল নয়। সুতরাং এটা সিরিয়াস ম্যাটার। এমন ঘটনা, ২৪ ঘণ্টা পরও কোনও সেন্ট্রাল এজেন্সি এখনও সক্রিয় হয়নি। আমরা মনে করি, ইমিডিয়েট ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

উল্লেখ্য, পুজোর আগে আগরতলা ফ্লাইওভার নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব।তার বক্তব্য ছিল, বাম আমলে এই ফ্লাইওভার তৈরির সময় কাটমানি খেয়েছে। এরপর দুজন ইঞ্জিনিয়ারকে সাসপেন্ডও করা হয়। এই ঘটনার সঙ্গে যেসব মন্ত্রী জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান বিপ্লব দেব।

এর তীব্র প্রতিবাদ করে বামেরা। বাম নেতা পবিত্র কর পালটা বলেন, কাটমানি বামেরা খায়নি, খেয়েছে বিপ্লব দেবের সরকার।

পুজোর পর মুখ্যমন্ত্রী ছেলের অস্ত্র আস্ফালনের ঘটনার পর কংগ্রেসের পাশাপাশি বিপ্লব দেবের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বামেরাও। সূত্রের খবর, বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন শুরু করবে বামেরা।

অভিযোগ, রাজ্যে রেগা প্রকল্পে কোনও টাকা আসে না। শিক্ষা ব্যবস্থা বেহাল। শিল্প নেই। রাস্তাঘাট বেহাল। উন্নয়ন নেই। মুখ্যমন্ত্রী পুজোয় ডান্ডি নেচে বেড়াচ্ছেন।

এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে ক্রমশ। আর এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু করবে বামেরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here