দ্য পিপল ডেস্ক: ফের রবিনসন স্ট্রিটের ছায়া লেকটাউনে। বন্ধ ঘরের মেঝেতে পড়ে রয়েছে মায়ের পচাগলা মৃতদেহ। মৃতদেহ আগলে বসে রয়েছে ছেলে। সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে লেকটাউন থানার অন্তর্গত ৩ নম্বর পল্লিশ্রী পল্লিতে। ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

সূত্রের খবর, পল্লিশ্রী পল্লির একটি তিনতলা বাড়িতে নীচের তলায় থাকতেন কমলা দেববর্মণ। ৭৫ বছরের মৃত কমলা দেবীর স্বামী কয়েক বছর আগে মারা যান। এরপর থেকে একমাত্র ছেলের সঙ্গে তিনি থাকতেন। কোনও কাজই করতেন না ছেলে। সারাদিন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকতেন ছেলে শুভ। নেশা করা নিয়ে প্রায়ই মায়ের সঙ্গে তাঁর ঝামেলা হত। মৃত ওই বৃদ্ধার স্বামী কাজ করতেন কাশীপুর গান অ্যান্ড সেল ফ্যাক্টরিতে। স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর পেনশনেই সংসার চলত।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, বেশকিছুদিন ধরে কমলা দেবীকে দেখা যাচ্ছিল না। কিছুদিন আগে তাঁর ঘরের ভিতর থেকে কান্নার আওয়াজ কানে এসেছিল। কিন্তু তারপরে তাঁকে বাইরে বেরোতে দেখা যায়নি।

প্রতিবেশীদের বক্তব্য, সোমবার কমলা দেবীর ঘরের ভিতর থেকে একটা গন্ধ আসে। তারপরে বেলা যত বাড়তে থাকে পচা দুর্গন্ধ বেরোতে থাকে। সেই গন্ধ পেয়ে সন্দেহ হয়। তাঁর বাড়ির সামনের জানলা দিয়ে উকি মারতে গিয়ে দেখা যায় কমলা দেবীর দেহ মেঝেতে পড়ে রয়েছে। তাঁর পুরো শরীরে পিঁপড়ে ও পোকা ধরেছে। ওই ঘরেই খাটের ওপরে শুয়ে আছে মৃতার ছেলে।  মায়ের কথা জিজ্ঞেস করায় তিনি বলেন মা বেঁচে আছে। তাঁর কথায় অসঙ্গতি দেখে লেকটাউন থানার পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। পুলিশ এসে ওই বৃদ্ধার মৃতদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।তবে কি কারণে কমলা দেবীর মৃত্যু হয়েছে এই নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে । মৃতার ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। 

এর আগেও সল্টলেকের বিই ব্লকের একটি বাড়িতে ১৮ দিন ধরে মায়ের মৃতদেহ আগলে বসেছিল ছেলে। বাড়ি থেকে প্রবল দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দিয়েছিলেন প্রতিবেশীরা। সেখানে গিয়ে তাজ্জব হয়ে যায় বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। দেখা যায়, কৃষ্ণা ভট্টাচার্যের পচাগলা মৃতদেহ আগলে ঘরে বসে রয়েছেন মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলে মৈত্রেয় ভট্টাচার্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here