দ্য পিপল ডেস্ক: পুজোর ছুটিতে ডাক্তার নেই হাসপাতালগুলিতে। নেই উপযুক্ত চিকিৎসা পরিষেবাও । উৎসবের চার দিনে চিকিৎসা না পেয়ে উত্তরবঙ্গ হাসপাতালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল শতাধিক। রিপোর্ট অনুযায়ী, পুজোর চারদিনে মৃত রোগীর সংখ্যা ১০৩, যা স্বাভাবিক মৃত্যুর হার ছাড়িয়ে গিয়েছে।  

হাসপাতালের সহকারী সুপার বিজয় থাপা বলেন, এমন কিছু বেশি রোগী মারা যায়নি। শুধুমাত্র ৮ অক্টোবর ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে পাঁচটি শিশু রয়েছে।

রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান রুদ্রনাথ ভট্টাচার্য বলেন, রোগী মৃত্যুর হার সেইভাবে বাড়েনি। তবে অভিযোগ পেলে অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।

মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই মৃত্যুর হার অস্বাভাবিক কিছু নয়। চিকিৎসা পরিষেবাও স্বাভাবিক ছিল বলেই জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।    

তবে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি মানতে নারাজ মৃতের পরিবার।

মৃতদের একজন ধূপগুড়ির বাসিন্দা রোহিদা বেগম। তাঁর স্বামী সিকন্দর আলির অভিযোগ, ১৪ দিন আগে পেটে টিউমার নিয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য রোহিদা ভর্তি হন। পুজোর ছুটির কারণে তাঁর অপারেশন পিছিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বুধবার সকালে তিনি মারা যান। তিনি বলেন ঠিক সময়ে যদি তাঁর স্ত্রীর চিকিৎসা করা হত তাহলে এভাবে তাঁর মৃত্যু হত না। চিকিৎসা না পেয়ে এইভাবে আরও অনেক রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

হাসাপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালে পৌঁছনোর আগে কিছু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া অস্বাভাবিক মৃত্যু ও পথ দুর্ঘটনার মতো পুলিশ কেসের রোগীর সংখ্যাও এবার বেশি ছিল। 

৪ অক্টোবর হাসপাতালে ২০ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে ২টি ছিল পুলিশ কেস। ৫ অক্টোবর ২১ জন মারা যায়। তার মধ্যে ৭টি পুলিশ কেস ছিল। এছাড়াও ৬, ৭ এবং ৮ অক্টোবর যথাক্রমে ১৯, ২০ এবং ২৩ জন রোগীর মৃত্যুর হয়। তিনদিনে একইভাবে পুলিশ কেস ছিল ৬, ৪ এবং ৮টি। 

সব মিলিয়ে মোট ১০৩ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে পুলিশ কেসের সংখ্যা ২৭টি। ৯ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত রোগী মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ন’জন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগী মৃত্যুর  এই পরিসংখ্যান মোটেই অস্বাভাবিক কিছু নয়। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here