দ্য পিপল ডেস্কঃ বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ভেঙে পড়ল কর্ণাটকের কংগ্রেস-জেডিএস সরকার। পদত্যাগের হিড়িকে বিপদের মুখে মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী। ১৩ কংগ্রেস ও জেডিএস বিধায়কের পর সোমবার রাজ্যপাল ভাজুভাই ভালার কাছে পদত্যাগপত্র পেশ করলেন নির্দল বিধায়ক নাগেশ। পাশাপাশি এদিন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি। অন্যদিকে, পদত্যাগ করেন ২১ জন কংগ্রেস মন্ত্রীও।

পদত্যাগের জন্য ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন উত্তর বিদারের কংগ্রেস বিধায়ক মহমুদ খান এমনটাই সুত্রের খবর। সরকার আটকাতে ধারাবাহিক বৈঠকে বসছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। ইতিমধ্যেই কংগ্রেস নেতাদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছেন রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী পরমেশ্বর। দলবদলের তালিকায় রয়েছেন তিনিও। রবিবার দুই দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী। বৈঠক করেন জেডিএস প্রধান দেবে গৌড়া। উপস্থিত ছিলেন কে সি বেনুগোপাল, সিদ্দারামাইয়া এবং ডিকে শিবকুমারও। একাধিক বিধায়কের পদত্যাগের জন্য বিজেপিকেই দুষছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের তোলা অভিযোগ মানতে নারাজ তিনি। অন্যদিকে সোমবার রাজ্যসভায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, কর্ণাটকের ঘটনার জন্য বিজেপি দায়ী নয়। দলবদলের সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই।

২০১৮ সালে কর্ণাটকের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল বিজেপি। সেবার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথগ্রহন করেছিলেন বিজেপির বিএস ইয়েদুরাপ্পা। পিছিয়ে থাকেনি কংগ্রেসও। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে কর্ণাটকে সরকার গঠনের জন্য জেডিএসের সঙ্গে হাত মেলায় তাঁরা। বিধানসভায় অনাস্থা ভোট পেয়ে সরকার গঠন করে কংগ্রেস-জেডিএস জোট। মুখ্যমন্ত্রী পদে নির্বাচিত হন এইচডি কুমারস্বামী।

কর্ণাটক বিধানসভার ২২৪ জন বিধায়কের মধ্যে কংগ্রেস এবং জেডিএস জোটের বিধায়কের সংখ্যা ১১৭। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৩ টি আসনের। অন্যদিকে কর্ণাটকের বিধানসভায় বিজেপি বিধায়কের সংখ্যা ১০৫। একাধিক বিধায়কের পদত্যাগের পর বিধায়ক সংকটে ।জোট সরকারের বিপদের দিনে নতুন সরকার গঠনের জন্য মুখিয়ে রয়েছে ইয়েদুরাপ্পা।

ইতিমধ্যেই বিএস ইয়েদুরাপ্পার সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিজেপি নেত্রী শোভা করন্ডলাজে। তিনি জানান, “মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামীর পদত্যাগ করা উচিত”। অন্যদিকে মাহেশের বিজেপিতে যোগদানের ইচ্ছাপ্রকাশের পর তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন করন্ডলাজে ।